বকেয়া বেতন ও বন্ধ কারখানা চালুর দাবিতে অবস্থান আন্দোলনের ১৩তম দিন

প্রকাশ : 14 Jul 2024
বকেয়া বেতন ও বন্ধ কারখানা চালুর দাবিতে অবস্থান আন্দোলনের  ১৩তম দিন


ডেস্ক রিপোর্ট: একই মালিকানাধীন বিএনএস গ্রুপের ন্যাশনাল কেমিক্যাল ম্যানুফেকচারিং কোং লি. এবং এবিকো ইন্ডাস্ট্রিজ লি.-এর শ্রমিকদের যথাক্রমে ৫ মাস ও ৩ মাসের বকেয়া বেতন-বোনাস পরিশোধ এবং কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে রোববার  ১৪ জুলাই ২০২৪, রবিবার, ১৩তম দিনের মতো শ্রম ভবনে অবস্থানরত শ্রমিকদের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ইউনিয়নের সভাপতি মো. মাফুজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র সহ-সভাপতি প্রবীণ শ্রমিকনেতা মাহাবুব আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, অর্থ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন, কেন্দ্রীয় নেতা মতিয়ার রহমান, জালাল হাওলাদার ও মো. রাসেল মিয়া প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গাজীপুরে অবস্থিত জনাব এমএনএইচ বুলু’র মালিকানাধীন বিএনএস গ্রুপের দুইটি কারখানা ন্যাশনাল কেমিক্যাল ম্যানুফেকচারিং কোং লি. এবং এবিকো ইন্ডাস্ট্রিজ লি. এ কর্মরত শ্রমিকদের যথাক্রমে ৫ মাস ও ৩ মাসের বকেয়া বেতন এবং ঈদ বোনাস পরিশোধ না করে কারখানা দুইটি বেআইনিভাবে বন্ধ করে রেখেছে। মালিক কারখানার ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দদেরকে ব্যাংক লোন করে দিতে চাপ প্রয়োগ করে আসছেন। যাহা ট্রেড ইউনিয়নের এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ। প্রকারান্তরে শ্রমিকদের বিপদগ্রস্ত করে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের অযৌক্তিক হীন উদ্দেশ্য। ইতোপূর্বে কারখানা দুইটির শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য শ্রম প্রতিমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছিলাম যাহা সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব প্রাপ্ত সকল দপ্তরে লিখিতভাবে অবহিত করে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অদ্যবধি কোনো সমাধান করতে পারিনি। এমতাবস্থায় পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। অনেক শ্রমিক পরিবারকে বাড়িওয়ালা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। অর্থাভাবে অনেক শ্রমিকের সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। গত ৩ মাস লাগাতার আন্দোলন চলছে।

২ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে। ২ জুলাই থেকে একাধারে তিন দিন শ্রম ভবনের সামনে লাগাতার অবস্থান ও আন্দোলনের চাপে শ্রম অধিদপ্তর গত ৭ জুলাই ত্রিপক্ষীয় সভা আহ্বান করেছিল। কিন্তু মালিক উপস্থিত হয়নি। এর আগেও ২টি সভায় মালিকপক্ষ উপস্থিত হননি। এরপরও সরকার মালিকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বারবার আশ্বস্ত করা হলেও অদ্যবধি শ্রমিকদের সাথে প্রহসনমূলক আচরণ করা হচ্ছে। যা প্রকারান্তরে মালিককে অপরাধ করে পার পাইয়ে দেওয়ার সামিল।

এমতাবস্থায় এই আন্দোলনকে প্রয়োজনে জাতীয়ভিত্তিক শ্রমিক আন্দোলনে পরিণত করে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে বলেও ঘোষণা দেন নেতৃবৃন্দ।

সম্পর্কিত খবর

;