বাড়ি নির্মাণ করছেন উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ!

প্রকাশ : 10 Jul 2024
বাড়ি নির্মাণ করছেন উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ!

বরিশাল অফিস:বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমেটরির মিটার থেকে সংযোগ নিয়ে উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তার বাড়ি নির্মাণ কাজ করছেন। আর ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহৃত বিদুৎ বিল পরিশোধ করছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে অবৈধ বিদুৎ সংযোগ নেওয়ার বিষয়টি অবগতনন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের অজান্তেু উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সাযযাদ উল্লাহ ফয়সাল এই অবৈধ কাজটি করেছেন। ঘটনা তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলাম। 


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বপ্রান্তে শিক্ষক এবং কর্মকর্তাদের থাকার জন্য ডরমিটরি রয়েছে। এর মধ্যে ডরমিটরি ভবনের দ্বিতীয় তলার  ফ্লাট-২-বি  এর মিটার থেকে আলাদা তার দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছে উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের নির্মাণাধীন ভবনে। ফ্ল্যাট বি-২তে   বসবাস করেন অপর নাইমা লাইজু নামে অপর এক উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। ডরমিটরি ভবনের দুইশত থেকে তিনশত ফুট দুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরিক্ষ নিয়ন্ত্রকের বাড়ির নির্মাণ কাজ চলছে। 


স্থানীয়রা জানান, উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সাযযা দউল্লাহ্মো. ফয়সাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিরেক্ট অফিসার অ্যাসোসিয়েশনের নেতা। পাশাপাশি যার ফ্ল্যাট থেকে বিদুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছে তিনিও ওই সংগঠনের নেত্রী। প্রায় ৫ মাস আগে নির্মাণ কাজ শুরু করার সময়ে সাযযাদ উল্লাহ্মো. ফয়সাল আলাদা তার দিয়ে এই সংযোগটি নেন। 


এ বিষয়ে নাইমা লাইজু বলেন, আপনার যেতারটি দেখেছেন সেটি ডিশের লাইন ছিল। ডিশ লাইনের তার আর বিদ্যুতের তার একই কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। এখানে বিদ্যুতের তার কীভাবেই এলো তাও আমি জানিনা। আমাকে খামাকা জড়ানো হচ্ছে।


বাড়ির কাজে নিয়োজিত নির্মাণ শ্রমিকরা জানান, এই বাড়ি নির্মাণের শুরু থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে আনালাইন দিয়ে বাড়ির কাজ চালানো হচ্ছে।  প্রতিদিন বিভিন্ন রডেঝালাই, গভীর নলকূপের মোটর চালানো, পানি উঠানো, ভবনের কিইউরিংসহ নানা কাজেই কাজে বিদ্যুতের ব্যবহার হয়। সবই আমরা এই লাইন থেকে করছি। যদিও বাড়ির মালিকের আলাদা একটি মিটার আছে। কিন্তু সেটি তেমন একটা ব্যবহার হয়না।  শ্রমিকরা জানান গতকাল মঙ্গলবার (৯জুলাই) দুপুরে পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেওয়া অবৈধ সংযোগটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।  


এ বিষয়ে জানতে উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সাযযাদ উল্লাহ্মো. ফয়সাল যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। মুঠোফেনে এসএমএস দেওয়া হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। 


বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সম্পদ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে ব্যবহার করার সুযোগ নেই। কিন্তু ডরমিটরি থেকে সংযোগ নিয়ে সাযযাদ উল্লাহ্মো. ফয়সাল বাড়ির কাছে ব্যবহার করছেন বিষয়টি আমাদের জানা ছিলনা। বিষয়টি আজকেরই জানতে পেরেছি। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

সম্পর্কিত খবর

;