ডেমরায় বিয়ে বাড়ী থেকে কনের পিতাকে সন্ত্রাসীরা উঠিয়ে নিয়ে চাঁদা দাবি

প্রকাশ : 18 May 2024
No Image

স্টাফ রিপোটার: ডেমরার ডগাইর পূর্বপাড়া কোদালদোয়া এলাকায় শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিয়ে বাড়ী থেকে সন্ত্রাসীরা কনের পিতাকে উঠিয়ে নিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে কনের গাঁয়ে হলুদের দিনে মেহেদী তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে কনের পিতা মো. খোকন মুন্সির বাড়িতে এসে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করিলে মারধর করিয়া নগদ ৩০ হাজার টাকা, সোনার ১২ আনা ওজনের ২ টি আংটি ও ১টি চেইন এবং ১টি মোবাইল সেট সন্ত্রাসীরা নিয়ে চলে যায়। যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা আবার আসবে বলে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতিসহ পরিবারের লোকজনদের প্রানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। বিয়ের দিন শুক্রবার আবারও মেহেদী তার সঙ্গীয় ফয়সাল, সাইফুল ইসলাম, রিয়াদ ও জুম্মুনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৬/৭জন নিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় বিয়ের অনুষ্ঠানে ভাংচুর করে ৪ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। এ সময় তাদের বাঁধা দিতে গেলে মেহেদী খোকনকে ছুরির হাতল দিয়ে আঘাত করে ও তার সঙ্গীয় সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি কিল—ঘুশি মারতে থাকে। খোকনকে বাঁচাতে খোকনের ২ বোন ও শ্যালক এগিয়ে আসলে তাদেরকেও মারধর করে। সন্ত্রাসীরা এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ঘরে ডুকে ভাংচুর করে এবং দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে খোকনকে উঠিয়ে নিয়ে বাকি বিল্লাহ’র অফিসে আটকিয়ে রাখে। খোকনের মা বরকতুন্নেছা (৬৫) কোন উপায় না পেয়ে খোকনের শ্যালক সোহেলকে ৯৯৯ কল দিতে বলে। সোহেল ৯৯৯ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে খোকনকে উদ্ধার করে। ৯৯৯ কল দেয়ার কারনে ঐ দিন রাতে মেহেদীর লোকজন এসে খোকন ও তার পরিবারকে শাসিয়ে যায়। মো. মেহেদী হাসান(৩০) পিতা—আব্দুল খালেক, মো. ফয়সাল(৩০) পিতা—আব্দুল জলিল, মো. সাইফুল ইসলাম(৩২) পিতা—আব্দুল খালেক, মো. রিয়াদ (৩২) পিতা—কাইয়ুম ও মো. জুম্মুন(৩২) পিতা অজ্ঞাত সকলেই রাজধানী ঢাকার ডেমরা থানার ডগাইর পূর্বপাড়া কোদালদোয়া এলাকার বাসিন্দা। এ বিষয়ে শুক্রবার রাতে ডেমরা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
খোকনের শ্যালক মো. সোহেল জানান, আমার ভগ্নিপতিকে মারধর করার সময় আমি তাকে বাচাঁতে গেলে তারা আমার উপর চড়াও হয়ে আমাকে মারধর করে এবং আমাকে গুলি করার হুমকি দেয়। এ সময় বিয়ে উপলক্ষে বেড়াতে আসা খোকানের দুই বোনকেও তারা মারধর করে জখম করে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. আব্দুর রব জানান, খোকন আমার বাড়ীর ভাড়াটিয়া, তাদের পরিবার অত্যন্ত শান্ত এবং ভদ্র। শুক্রবার ১২ টার দিকে আমার বাড়ির সামনে অনেক লোকের আনাগোনা দেখি কিন্তু বিয়ে বাড়ি হওয়ায় স্বাভাবিক মনে করে আমি আমার রুমে চলে যাই। বেশ কিছুক্ষন পরে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দে আমি নিচে নেমে দেখি খোকনকে কারা যেন ধরে নিয়ে যাচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর

;