সিংড়ায় পুকুরের মাছ লুট, বাধা দেয়ায় পিটিয়ে জখম

প্রকাশ : 14 Nov 2021
No Image

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের সিংড়ায় পুকুরের মাছ লুট করতে বাধা দেয়ায় দুই অংশীদারকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে অপর অংশীদারের বিরুদ্ধে। গত বুধবার রাতে উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের আগপাড়া বিলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মূলহোতা জাহিদ হাসানসহ ৬ জনকে আসামী করে সিংড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভূক্তভোগী মো. নূর নবী।

অভিযোগ ও বাদী সূত্রে জানা যায়, সিংড়া উপজেলার শেরকোল ˆলইলার বিলে দীর্ঘদিন ধরে ৫টি পুকুর চাষ করে আসছিলেন আগপাড়া শেরকোলের জাহিদ হাসান, কলম ইউনিয়নের হরিনা গ্রামের মো. নূর নবী ও তাঁর শ্যালক পৌর শহরের গোডাউনপাড়ার আলেপ হোসেন। ৫টি পুকুরে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা মূলধন বিনিয়োগ করেন নূর নবী ও আলেপ হোসেন কিন্তু স্থানীয় ও প্রভাবশালী হওয়ায় মাত্র দেড় লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে সমান অংশীদার হোন জাহিদ হাসান। গত ২৬শে আগষ্টসহ ২দিন গভীর রাতে পুকুরের মাছ লুট হয়। পরবর্তীতে গত বুধবার (১০ শে নভেম্বর) রাতে নূর নবী জানতে পারে কে বা কাহারা তাঁর পুকুরের মাছ লুট করছে। বিষয়টি জানার পরে রাত্রি সাড়ে ১১টায় পুকুরে উপস্থিত হয়ে দেখে তাঁর পুকুরের অংশীদার জাহিদ হাসান, তাঁর ভাই মো. হালিমসহ বেশ কয়েকজন পুকুরের মাছ লুট করছে। মাছ লুট করতে বাধা দেয়ায় নূর নবীকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করে এবং তাঁর ছেলে নুরে আলম সিদ্দিকী ও শ্যালক আলেপকে পিটিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। স্থানীয়রা তাঁদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

ভূক্তভোগী নূর নবী বলেন, আমরা তিনজন যৌথভাবে পুকুরে মাছ চাষ করি। কিন্তু আমাদের অংশীদার জাহিদ হাসান এর আগে দুইবার মাছ লুট করে। তৃতীয় বার লুটে বাধা দেয়ায় আমাদেরকে পিটিয়ে জখম করেছে। আমি এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।

আনোয়ার হোসেন ও শ্রী সোহাগ নামের দুজন জেলে জানায়, জাহিদ হাসান নামের এক ব্যক্তি আমাদেরকে তাঁর পুকুরের মাছ ধরার জন্য বলে। আমরা তিনবার তিনটি পুকুরের মাছ ধরেছি। তৃতীয়বার রাতে মাছ ধরার সময় জানতে পারি জাহিদ হাসান একা পুকুরের মালিক না, আরও দুজন অংশীদার আছে।

অভিযুক্ত জাহিদ হাসান বলেন, আমি তাঁদের সাথে একটি পুকুরের অংশীদার। বাঁকিগুলো আমি একা চাষ করি। সেগুলোতে মাছ ধরেছি। নূর নবীকে পিটিয়ে জখম করার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, তারাই আমাকে এবং আমার ভাইকে মারপিট করেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূর-এ-আলম সিদ্দিকী (বিপিএম) জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর

;