প্রতিহিংসার বাংলাদেশ চায়নি ছাত্ররা: জনলোক

প্রকাশ : 10 Aug 2024
প্রতিহিংসার বাংলাদেশ চায়নি ছাত্ররা: জনলোক

ডেস্ক রিপোর্ট:  “মানবিক চেতনায় সামাজিক মুক্তি”-শ্লোগান নিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্র সংস্কারে কাজ করা সামাজিক সংগঠন 'জনলোক' অবিলম্বে সারাদেশে হামলা, ভাংচুর,  লুটপাটসহ  সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধে অন্তরবর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। 

আজ (১০ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানিয়ে জনলোকের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, “ছাত্রদের বিজয়ের মধ্যে দিয়ে যে নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে তা কোনভাবেই হত্যা, সংঘাত, হামলা, লুটপাট, ডাকাতি আর প্রতিহিংসাকে সমর্থন করে না। ছাত্ররা প্রতিহিংসার বাংলাদেশ চায় নি। রাষ্ট্র সংস্কারের যে কাজ তারা রাজপথে এবং সামাজের বিভিন্ন অংশে শুরু করেছে তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। সমাজের এবং রাষ্ট্রের ঘুনেধরা প্রতিটি অংশকে আবার ঢেলে সাজাতে হবে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যে দেশ তার সত্যিকারের গঠনপ্রক্রিয়ায় ছাত্ররা পথপ্রদর্শক। এই প্রক্রিয়া নস্যাত হয়ে যাবে যদি প্রতিহিংসা আর ক্ষমতা পরিবর্তনের রাজনীতি শুরু হয়। ইতোমধ্যেই নাম পরিবর্তনের রাজনীতি শুরু হয়েছে, ভিন্নমতের মানুষদের হত্যা-নির্যাতন করা হচ্ছে।”

নেতারা বলেন, “ছাত্রহত্যার প্রতিবাদের মাধ্যমেই ছাত্রদের আন্দোলন গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। আজ বিজয়ের পর সেই হত্যা আর প্রতিশোধের রাজনীতি কোনভাবেই মেনে নেবেনা তারা। জনলোক মনে করে সমাজে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণিপেশার মানুষ মিলেমিশে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে সামাজিক-সাংস্কৃতিক চেতনার বিকাশের মাধ্যমে এদেশকে এগিয়ে নিবে। গত কয়েকদিন থেকে সুযোগসন্ধানি দুর্বৃত্তরা যে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ এবং হত্যাযজ্ঞের জঘন্য খেলায় মেতে উঠেছে, জনলোক তার তীব্র নিন্দা করছে। রবীন্দ্র ভাস্কর্য, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন ভাস্কর্য সহ মুক্তিযুদ্ধ ও মহান স্বাধীনতার ঐতিহ্যের স্মারক সম্বলিত ভাস্কর্য ও স্থাপনা ভাঙারও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। একই সাথে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ীঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে ন্যাক্কারজনক হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদ জানায় জনলোক।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি সঞ্জীব রায় ও মিজানুর রহমান দেলোয়ারের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও হামলা করা হয়েছে। জনলোকের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে সকল সহিংস হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে দুর্বৃত্তদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা আশা করি নবগঠিত অন্তবর্তীকালীন সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সারাদেশে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, হত্যা বন্ধ করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবেন।” মানুষের জীবন রক্ষায় সমাজের সর্বস্তরের জনতাকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছে জনলোক। 


সম্পর্কিত খবর

;