জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা

প্রকাশ : 28 Aug 2025
জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা

স্টাফ রিপাের্টার: নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে ।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ রোডম্যাপ ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

জনাব আখতার আহমেদ বলেন, 'ভোট গ্রহণের ৬০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করে হবে তবে ভোটগ্রহণের তারিখ তো আমি জানি না। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলেছে, আগামী রমজানের আগে ভোট করার জন্য। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে তাহলে ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু। আবার রমজানতো চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। এভাবে আপনি নির্বাচনের তারিখ বের করতে পারেন।'

নভেম্বরের শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে-এ কথা জানিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, ভোটার তালিকায় ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হবে তাদের জন্য আরেকটি ভোটার তালিকা করা হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর বিধিমালা চূড়ান্ত করতে আগামী সপ্তাহে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

রোডম্যাপ অনুযায়ী, ইসির উদ্যোগে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ করা হবে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সুশীল সমাজ, নারী প্রতিনিধি, পর্যবেক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী সহ অন্যান্য অংশীজনরা এই সংলাপে অংশ নেবেন।

রোডম্যাপ অনুযায়ী, নির্বাচনে পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন ২২ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত করে ১৫ নভেম্বর নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হবে। বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের অনুমতি প্রদানে যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করা হবে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে। এ ছাড়া ১৫ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচনী তথ্য প্রচারের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয়, টিঅ্যানডটি, বিটিআরসিসহ বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর কোম্পানির সঙ্গে সভা করবে ইসি।

রোডম্যাপে বলা হয়, নির্বাচনী ম্যানুয়েল, নির্দেশিকা, পোস্টার ইত্যাদি মুদ্রণ শেষ করা হবে ১৫ সেপ্টেম্বর মধ্যে। ২৯ আগস্ট থেকে ভোটগ্রহণের ৪ থেকে ৫ দিন আগে যাবতীয় নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ করবে ইসি। নির্বাচনের সব প্রকার মালামাল সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রম শেষ করা হবে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে। ব্যবহার উপযোগী স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স চূড়ান্ত করা হবে ৩০ নভেম্বর মধ্যে।

রোডম্যাপে আরও বলা হয়, ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত শেষ হবে ৩০ সেপ্টেম্বরে মধ্যে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম সভা হবে ২৫ সেপ্টেম্বর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য কার্যবলী গ্রহণ করবে ধাপে ধাপে। নির্বাচনের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হবে ৩১ অক্টোবর। ৩১ অক্টোবরের আইসিটি সংক্রান্ত সকল কাজ শেষ করতে চায় কমিশন।

ইসি সচেতনতামূলক প্রচার কাজ শেষ করতে চায় ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। এছাড়া টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা, ফলাফল কীভাবে প্রকাশ ও প্রচার করা হবে, বেসরকারি ফলাফল প্রচার সংক্রান্ত কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।

রোডম্যাপে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন ও দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন চূড়ান্ত করাসহ ২৪টি কার্যাবলীকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সংসদীয় আসনের সীমানা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য ধরা হয়েছে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর। এ গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে দেশের ৩০০টি আসনের ভৌগোলিক সীমানা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ হবে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রস্তুত জিআইএস (ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা) ম্যাপ ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী নতুন রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রাথমিক নিবন্ধনের জন্য ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। দলগুলোর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে ৩০ সেপ্টেম্বর। ফলে নতুন দলগুলোর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।

নির্বাচন কমিশন আরো জানিয়েছে, কারাবন্দিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ভোটের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হবে। ফলে কারাবন্দি ভোটাররাও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।

২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোটের যাবতীয় কার্যক্রমও সম্পন্ন করা হবে বলে ইসি সূত্রে জানানো হয়।

সম্পর্কিত খবর

;