Home স্বাস্থ্য অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে : বিএসএমএমইউ উপাচার্য

অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে : বিএসএমএমইউ উপাচার্য

30

বিশ্ব স্ট্রোক দিবসে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা

স্টাফ রিপোটার: ‘জানুন স্ট্রোকের লক্ষণ, মিনিটেই বাঁচিয়ে দিন বহু জীবন’ স্লোগান নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বিশ্ব স্ট্রোক দিবস-২০২২’ পালিত হয়েছে। রবিবার সকালে ১০ টায় (৩০ অক্টোবর ) বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ব্লকে দিবসটি উপলক্ষ্যে নিউরোমেডিসিন ও নিউরো সার্জারি বিভাগ পৃথক দুটি গণসচেতনামূলক শোভাযাত্রা ও সাড়ে ১০টায় শহীদ ডা. মিল্টন হলে নিউরোসার্জারি বিভাগ একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার আয়োজন করে। এদিকে বেলা সাড়ে ১১ টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোলজি বিভাগও বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষ্যে একটি গণসচেতনামূল শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বি-ব্লক থেকে শুরু হয়ে বটতলা, এ-ব্লক, টিএসসি প্রদক্ষীণ করে ডি-ব্লক গিয়ে শেষ হয়।

নিউরোসার্জারি বিভাগ আয়োজিত সেমিনারে বলা হয়, বিশ্ব ব্যাপী মানুষের মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ স্ট্রোক। বিশ্বের মৃত্যুর প্রতি ৪ জনের ১ জনের স্ট্রোকে মৃত্যু হয়। বিশ্বে প্রতি মিনিটে ১০ জন স্ট্রোকের কারণে মৃত্যু হয়। বিশ্বের ১০০ জন স্ট্রোক আক্রান্ত রোগীর ৪৮ জনেরই উচ্চ রক্তচাপ ভুগেন। বিশ্বে প্রতি হাজারে ৮ থেকে ১০ জন মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে প্রতি লাখে ২ থেকে ১৩ জন শিশু স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে মস্তিস্কে স্ট্রোকের অর্ধেক হয় রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়ার কারণে, বাকি অর্ধেক হয় মস্তিস্কের রক্ত নালি ছিড়ে রক্তক্ষরণের মাধ্যমে স্ট্রোক হয়। বছরে ১০ থেকে ২৫ ভাগ শিশু স্ট্রোকে মারা যায়। ২৫ ভাগ শিশু বারবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়। স্ট্রোকে আক্রান্ত ৬৬ ভাগ শিশুদের হাত পায়ের দুর্বলতা, খিঁচুনী দেখা দিতে পারে। স্ট্রোকে আক্রান্ত শিশুদের শারিরিক ও মানসিক বিকাশে ব্যাঘাত ঘটে।

বাংলাদেশে স্ট্রোক রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। স্ট্রোকের চিকিৎসার জন্য দ্রুত সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। এই সময়ের মধ্যে জরুরি চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হলে রোগীর মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব কমানো সম্ভব। স্ট্রোক রোগীদের বিশেষ করে মাথায় রক্তক্ষরণ হলে জরুরি অপারেশন প্রয়োজন হয়। ইসকেমিক স্ট্রোক (রক্তবাহিকা নালিকা বন্ধ) হলে জরুরি অপারেশন করলে রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সাইন্সসহ দেশের পনের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে স্ট্রোকের অপারেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। স্ট্রোক আক্রান্ত রোগীদের আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনে বিশেষায়িত হাসপাতালে আসার জন্য বলা হয়। শতকরা ৮০ ভাগ স্ট্রোক আক্রান্ত ওষুধের মাধ্যমেই ভাল হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ১০০টি বেডের অত্যাধুনিক স্ট্রোক ইউনিট চালু হলে দেশের রোগীদের আর বিদেশে যাবার প্রয়োজন হবে না।

সেমিনারে বলা হয়, স্ট্রোক প্রতিরোধে ৭টি পদক্ষেপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খাবারে তেল ও লবণের ব্যবহার কমানো, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা, ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবন থেকে বিরত থাকা, ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ থাকলে নিয়ন্ত্রণে রাখা, রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা ও স্ট্রেস কমাতে নামাজ, উপাসনা বা মেডিটেশন করা।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরো সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আখলাক হোসেন খান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্ট্রোকের চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউরোসার্জনসের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, দ্রুত সময়ে স্ট্রোকের রোগীদের হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হলে অনেক মৃত্যু ঠেকানোর পাশাপাশি বিকালঙ্গ রোধ করা যাবে। স্ট্রোকের রোগের চিকিৎসা করার চেয়ে স্ট্রোক প্রতিরোধ করা জরুরি। এজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। খাবারে লবণ না খাওয়া, ডায়াবেটিস কন্ট্রোল করা, নিয়মিত শরীর চর্চা করা, স্ট্রেস না নেয়া, ধুমপান না করার উপর জোর দিতে হবে।

স্ট্রোক রোধে মোবাইল ফোন কম ব্যবহারের উপর জোর দিয়ে অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, মোবাইল ফোন কম ব্যবহার করতে হবে। অধিক সময় মোবাইল ফোন নিয়ে বসে থাকলে স্ট্রেস বেড়ে গিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন দ্রব্যের সাশ্রয় করতে বলেছেন। তাই আমরা ওষুধের পিছনে বেশী অর্থ ব্যয় না করতে হয় সেদিকে সচেতন হতে হবে। এজন্য সকলকে রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের দিকে বেশী মনোযোগ দিতে হবে। এতে করে অর্থনৈতিক ক্ষতির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা যাবে।

বৈজ্ঞানিক সেমিনারে নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হারাধন দেবনাথ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. কে এম তারিকুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামসুল আলম ও সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ রকিবুল ইসলাম পৃথক চারটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

এসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবুর রহমান দুলাল, নিউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবু নাসার রিজভী, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ আরাফাত, নিউরো সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. ধীমান চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. মওদুদুল হক, অধ্যাপক ডা. আইউব আনসারী, অধ্যাপক ডা. সুকৃতি দাস, সহযোগী অধ্যাপক ডা. রেজাউল আমিন ও ডা. খায়রুন নবী খান, নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাসান জাহিদুর রহমান, অধ্যাপক ডা. কনোজ কুমার বর্মন, অধ্যাপক ডা. মোঃ শহীদুল্লাহ, অধ্যাপক ডা. সুভাষ কান্তি দে প্রমুখসহ নিউরোসার্জারি ও নিউরোলজি বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।