৮৬ ঔষধ কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

যুগবার্তা ডেস্ক: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জিএমপি (গুড ম্যানুফ্যাকচারিং গাইডলাইন) অনুসরণ না করায় এবং ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষধ উৎপাদনের দায়ে এ পর্যন্ত ৮৬টি ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল এবং ১৯টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া এছাড়া ৬১টি পদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল এবং ১৪ টি পদের রেজিস্ট্রেশন সাময়িক বাতিল করাসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিস্ট ব্যক্তি/ ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাসদ দলীয় সংসদ সদস্য বেগম লুৎফা তাহেরের প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তার স্বার্থে ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষধ বিক্রয় ও উৎপাদনকারী ফার্মেসী ও ফার্মসিউটিক্যাল কোম্পানীর বিরুদ্ধে সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বদাই সচেষ্ট রয়েছে এবং সরকার এব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করেছে।
মন্ত্রী বলেন, ভেজাল, নকল ও মানহীন ঔষধ বিক্রি বন্ধে দেশের বিভাগীয় শহরসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মডেল ফার্মেসী স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে এবং সরকার ইতোমধ্যে ঢাকাসহ সারা দেশে ১৫০টি ফার্মেসীকে মডেল ফার্মেসী হিসাবে অনুমোদন প্রদান করেছে। মডেল ফার্মেসী থেকে জনগনমানসম্মত ঔষধ কেনার পাশাপাশি ঔষধের ব্যবহারবিধি সর্ম্পকে সঠিক ধারনা পাবে। সারা দেশব্যাপি মডেল ফার্মেসী প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘এ্যাকসেস টু ইনফরমেশন’প্রোগামের সহায়তায় ঔষধের বিরুপ প্রতিক্রিয়া, নকল ঔষধ চিহ্নিতকরন এবং ঔষধের নির্ধারিত মূল্যের অধিক মূল্যে বিক্রয়ের বিষয়ে অনলাইনভিত্তিক রিপোর্টিংয়ের জন্য ওয়েব পোর্টাল ও মোবাইল এপ্লিকেশন শীর্ষক একটি প্রকল্পের কার্যক্রম বর্তমানে পাইলটিং পর্যায়ে রয়েছে। এই সফটওয়ারের মাধ্যমে জনগন ঔষধের বিরুপ প্রতিক্রিয়া বিষয়ে রিপোর্ট করতে পারবে। ঔষধের নির্ধারিত মূল্য যাছাই করা সম্ভব হবে। দেশে যে কোন এলাকায় প্রাপ্ত ভেজাল ও নকল ঔষধ সর্ম্পকে স্বল্প সময়ে নিশ্চিত হতে পারবে এবং ঔষধ সংক্রান্ত যে কোন অভিযোগ দ্র“ত দাখিল করতে পারবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বাসৃথ্যমন্ত্রী জানান, সরকারের আন্তরিকতা ও উদারনীতির ফলে বাংলাদেশের ঔষধশিল্প অন্যতম শিল্প সেক্টরে পরিণত হয়েছে। দেশীয় চাহিদার শতকরা ৯৮ ভাগের বেশী ঔষধ বর্তমানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। বর্তমানে দেশে উৎপাদিত বিভিন্ন প্রকার ঔষধ ও ঔষধের কাঁচামাল বিশ্বের ১২৭টি দেশে রফতানি হচ্ছে। ঔষধ রফতানির পরিমাণ ও দেশের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, হিমোফিলিয়া ফাউন্ডেশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে প্রায় ৩ হাজার রোগী আছে। হিমোফিলিয়া রোগীদের চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল ও ব্যায়বহুল।
তবে দেশের সকল সরকারী ও বেসরকারী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার সুবিধা রয়েছে। কিন্তু বিশেষায়িত চিকিৎসা জটিল, ব্যায়বহুল ও বিশেষ প্লান্টের মাধ্যমে চিকিৎসা দিতে হয় বিধায় ভবিষ্যতে হিমোফিলিয়া রোগীদের চিকিৎসা সুবিধার্থে বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনের চিন্তা-ভাবনা সরকারের রয়েছে।-আমাদের সময়.কম