৭ নভেম্বর শক্তির জানান দিতে চায় বিএনপি

যুগবার্তা ডেস্কঃ সোহরাওয়ার্দী উদ‌্যানে আওয়ামী লীগের জাঁকালো সম্মেলনের পর একই স্থানে বড় আকারের সমাবেশ করে নিজেদের শক্তির জানান দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।
এলক্ষ‌্যে শনিবার নয়া পল্টনের কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপি যৌথসভা করেছে। এতে দলের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ছিলেন।
সভায় ব‌্যাপক জনসমাগম ঘটাতে ঢাকার নেতাদের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “সেইদিন যেন আমরা এমন একটা সমাবেশ করতে পারি, যা থেকে প্রমাণিত হবে যে বিএনপি এখনও বাংলাদেশে এক নম্বর রাজনৈতিক দল। বিএনপির থেকে বড় কোনো রাজনৈতিক দল নেই- এটা আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে।”
৭ নভেম্বর সমাবেশ করতে পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে বলে জানান ফখরুল।
ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, “৭ নভেম্বর স্মরণকালের সমাবেশ করতে হবে। এজন্য সকলকে সকল স্তরের কমিটিকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। এই সভা থেকে সকলে এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার কাজে নেমে পড়বেন, এটাই আমরা চাই।”
দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর সরকার হটাতে আন্দোলন চালিয়ে ব‌্যর্থ হয়ে এবছর কাউন্সিল করলেও বিএনপির সক্রিয়তা ফেরেনি। দলটির আন্দোলনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা।
বর্তমান পরিস্থিতি নেতা-কর্মীদের সামনে তুলে ধরে ফখরুল বলেন, “আমরা এক কঠিনতম সঙ্কট অতিক্রম করছি। গণতন্ত্রের জন্য, দেশের জন্য, দেশের স্বাধীনতার জন্য এই সময়টা সবচাইতে কঠিন সময় যাচ্ছে।”
৭ নভেম্বরের চেতনায় উজ্জীবিত হতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
“এই ৭ নভেম্বরে জাতি একটা বড় বিপর্যয় কাটিয়ে উঠেছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে, সিপাহী-জনতার নেতৃত্বে। সেদিন সৈনিক ও জনগণের এক অভূতপূর্ব ঐক্যের সৃষ্টি হয়েছিলো, যে ঐক্যের মধ্য দিয়ে আধিপাত্যবাদের যে চক্রান্ত তাকে নৎসাৎ করে দিয়ে সত্যিকার অর্থে জনগণের একটি বাংলাদেশ ও স্বাধীন একটি বাংলাদেশ তৈরি করবার জন্য তারা সফল হয়েছিলেন।”
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার পর রাজনৈতিক পালাবদলের এক পর্যায়ে সেনানিবাসে বন্দি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ৭ নভেম্বর মুক্ত হন।
এই দিনটি বিএনপি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি’ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। অন‌্যদিকে আওয়ামী লীগ পালন করে মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত‌্যা দিবস হিসেবে।
নয়া পল্টনে ঢাকা মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে মির্জা আব্বাসের সভাপতিত্বে যৌথসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, মহিলা দলের পেয়ারা মোস্তফা, উলামা দলের শাহ নেসারুল হক, মহানগর বিএনপির কাজী আবুল বাশার বক্তব্য রাখেন।