’৭১-এর ঘাতক চক্রের ফাঁসি নিয়ে পাকিস্তান-তুরস্কের বাড়াবাড়ির দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে হবে—যুব মৈত্রী

141

যুগবার্তা ডেস্কঃ “৭১-এর পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বর্বর পোড়ামাটি নীতি এবং এদেশের জনগণের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ঘাতক আল-বদর রাজাকারদের হিংস্র আক্রমণ, লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা, বুদ্ধিজীবী নিধন, মা-বোনের সম্ভ্রম লুণ্ঠন এগুলো কোন গোপন বিষয় ছিলো না। বরং স্বাধীনতা সময়কাল থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি ছিল বিশ্ব জনমতেরই অংশ। বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ’৭১-এর সেই যুদ্ধাপরাধীদের ও ঘাতক শিরোমনিদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ১৪ দলের সরকার ইতিহাসের সেই দায় মোচন করছে, ঘাতকদের সেই বিচার মানতে চাইছে না তথাকথিত ইসলামী ধ্বজাকারী তুরস্ক ও পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকিয়ে দিতে ঐ দুটি দেশ মরিয়া হয়ে প্রচেষ্টা চালিয়েছে এখন তাদের সেই অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সকল কূটনৈতিক শিষ্ঠাচার ছাড়িয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে চলেছে। তুরস্ক-পাকিস্তানের এই বাড়াবাড়ির দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে হবে। দরকার হলে তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছেদ করে, বীরের জাতি হিসেবে নিজেদের সার্বভৌমত্ব-জাতীয় সম্মান নিয়ে দাঁড়াতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের ন্যায় এদেশের যুব সমাজকে ঐ অপশক্তির বিরুদ্ধে এগিয়ে যেতে হবে।”
আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ যুব মৈত্রী আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ একথা বলেন।
বিকেল ৫টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সভায় যুব মৈত্রী সভাপতি মোস্তফা আলমগীর রতনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড নুর আহমদ বকুল, যুব মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ফজলু, সহ-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুজন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহবুবুল আলম সোহেল, উত্তরের সভাপতি মুতাসিম বিল্লাহ সানী, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সুমন প্রমুখ।
বক্তারা তুরস্ক-পাকিস্তানের কূটনৈতিক শিষ্ঠাচার বহির্ভূত এই আচরণের ঐ দেশ দুটিকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। এবং এই অপতৎপরতা বন্ধের দাবি জানান। পাকিস্তানে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ জামাত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি করেন। সমাবেশ শেষে পাকিস্তানের পতাকায় অগ্নিসংযোগ করা হয়। বিক্ষোভ শেষে একটি প্রতিবাদী মিছিল প্রেসক্লাব-পল্টন হয়ে দলীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।