৭টি হিন্দু পরিবারকে পৈত্রিক রেকর্ডিয় জমির লিজ নেওয়ার নোটিশ উজিরপুরে

বরিশাল অফিসঃ আদালতের কারন দর্শানোর জবাব না দিয়েই পৈত্রিক রেকর্ডিয় জমির মালিক এবং ক্রয়সূত্রে দলিলকৃত মালিকদের লিজমানি প্রদান করে লিজ (ডিসিআর) নেওয়ার নোটিশ জারি করেছেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার ঝুমুর বালা। নোটিশটি জারি করা হয়েছে ১০ মে সরকারি ছুটির দিনে। এবং সেই সাথে রেকর্ডিয় ও দলিলকৃত মালিকরা ৭ দিনের মধ্যে বকেয়া লিজমানি পরিশোধ না করে লিজ না নিলে অন্যদেরকে লিজ প্রদান করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করেছেন। এ অবস্থায় ইউ,এন,ও ঝুমুর বালার রোসানলে পরে উজিরপুর পৌর সদরের ৪ নং ওয়ার্ডের প্রায় ৭টি হিন্দু পরিবার উচ্ছেদ ও জমি হারানোর ভয় আতঙ্কিত হয়ে পরেছে।
নোটিশ প্রাপ্ত ৭টি হিন্দু পরিবারের মধ্যে রয়েছেন দেবতোষ চন্দ, শঙ্কর মজুমদার, হরিপদ সরকার, বিভারানি হালদার, শান্তি রজ্ঞন আচার্য, বকুল আচার্য সহ আরো অনেকে। নোটিশ প্রাপ্ত পরিবার গুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলা হয়েছে যে তারা তাদের পৈত্রিক রেকর্ডিয় ও দলিলমুলে রেকর্ডিয় মালিক,একারনে তারা কোনদিনও এ জমিতে লিজ গ্রহন করেননি,ফলে বকেয়া লিজমানি পরিশোধেরও কোন প্রশ্ন থাকতে পারেনা ।
উজিরপুর পৌর সদরের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সহকারি পোষ্টমাষ্টার দেবতোষ চন্দ (৭৮) অভিযোগ করে বলেন উজিরপুর মৌজার জে,এল,৯২ এস,এ, ৪১৭,৪১৮ নং খতিয়ানের ৭৩৩ ও ৭৩৪ নং দাগের জমি তার পৈত্রিক রেকর্ডিয় ভিটা বাড়ি। এই জমি ভিপি তালিকা ভুক্ত না হওয়া সত্বেও ১৯৮৯ সালে জনৈক মাখম লাল রায়কে একটি ডিসিআর দিয়েছিলো। পরে এর প্রতিকারে তিনি দেওয়ানী ৩৫/৮৯ নং মামলা দায়ের করেন এবং ৩১.৭.১৯৯১ তারিখে রায় ও ডিক্রী পান,সেই সাথে এই জমিতে সরকারের বিরুদ্ধে স্থায়ী নিশেধাজ্ঞা জারি হয়। পরে সরকার পক্ষে বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে দেওয়ানী ১৮৭/৯১ নং আপিল দায়ের করলে দোতরফা শুনানী অন্তে ১.৮.১৯৯৩ তারিখে বিজ্ঞ নিম্ম আদালতের ৩৫/৮৯ নং মামলার রায় ডিক্রী বহাল রেখে আপিল মামলাটি খারিজ করে দেন। পরে সরকার পক্ষে তৎকালিন ইউ,এন,ও উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে মাহামান্য হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন নং ৪৯ (কনঃ) ১৯৯৫ দায়ের করলে মহামান্য হাইকোর্টেও দোতরফা শুনানী অন্তে বিজ্ঞ নিন্ম আদালতের আদেশ বহাল রেখে ২৯.৫.১৯৯৭ তারিখে মহামান্য হাইকোর্টের বিচারক মামলাটি খারিজ করে দেন। ফলে আইনগত ভাবে সরকারের এই জমিতে প্রবেশের আর কোন সুযোগ নেই। তারপরেও তৎকালিন উপজেলা ভুমি অফিস ও ইউ,এন,ও অফিসের কর্মচারিদের যোগসাজশে আমার সম্পত্তি ২০১২ সালে প্রকাশিত “ক” গেজেটে তালিকাভুক্ত করানো হয়েছে,যা রিতিমত মাহামান্য হাইকোর্ট অবমামনা করা হয়েছে। এরপরে “ক” গেজেট থেকে অবমুক্তির জন্য আমি অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন ট্রাইব্যুনালে ভিপি ১৪/১৪ নং মামলা দায়ের করি যা বর্তমানে সাক্ষী চলছে,এ অবস্থায় উজিরপুরের ইউ,এনও, ঝুমুর বালা গত ১১ এপ্রিল আমার জমি লিজ দেওয়ার জন্য ভুমি অফিসের সরকারি সার্ভেয়ার জাকির হোসেনকে পাঠিয়ে মৌখিক ভাবে বলে যায় এবং জমি মাপজোখ করিয়ে নেয়।
১২ এপ্রিল আমার ছেলে ও প্রতিবেশি শংকর মজুমদার,ফারুক শরিফ বিজ্ঞ আদালতের আদেশের সকল কাগজপত্র নিয়ে ইউ,এনওর কাছে গেলে তিনি এ কাগজের কোন মূল্য নেই বলে অরিজিনাল কাগজ দেখতে চান,অরিজিনাল কাগজ অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যাপর্ন ট্রাইব্যুনালে বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করা হয়েছে এবং এই অবস্থায় তাহা উত্তোলন করা সম্ভব নয় বলে তাকে জানালে তিনি ধমক দিয়ে পাঠিয়ে দেন। এ অবস্থায় গত ২০ এপ্রিল একই আদালতে সরকারের বিরুদ্ধে ইনজাংশনের আবেদন করা হলে বিজ্ঞ আদালত ভিপি ১৪/১৪ নং মামলায় জেলা প্রশাসক বরাবরে ২১ দিনের মধ্যে কারন দর্শানোর নোটিশ জারি করেন এবং তা একই দিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আদালতের জারিকারক জারি করেন তৎসাথে গত ২৫ এপ্রিল কারন দর্শানোর নোটিশের একটি সার্সিং কপি উজিরপুরের সদ্য বিদায়ী সহকারি কমিশনার (ভুমি) মোঃ মাসুদুল আলম’র কাছে জমা দিয়ে রিসিপ করিয়ে নেওয়া হয়েছে,এরপরেও বিজ্ঞ আদালতের কারন দর্শানোর নোটিশের জবাব না দিয়ে ১০ মে সকালে সরকারি ছুটির দিনে উপজেলা ভুমি অফিসের জারিকারকের মাধ্যমে আমাদের বকেয়া লিজমানি প্রদান করে লিজ (ডিসিআর) নেওয়ার জন্য নোটিশ জারি করেছেন। বৃদ্ধ দেবতোষ চন্দ সহ নোটিশ প্রাপ্ত সকলেই প্রশ্ন তুলেছেন যে এটাও কি আদালত অবমাননার সামিল নয় ? অন্যদিকে ইউ,এন,ও ঝুমুর বালার রোষানলে পরে উজিরপুরের এই ৭টি হিন্দু পরিবার পৈত্রিক রেকর্ডিয় সম্পত্তি হারানোর ভয়ে আতংকিত হয়ে পরেছেন। অন্যদিকে নোটিশপ্রাপ্ত হিন্দু পরিবারগুলোর পক্ষথেকে আরো অভিযোগ করে বলা হয়েছে ইউ,এন,ও বার বার রেকর্ডিয় মালিকদের কাছে মামলার অরিজিনাল নথি দেখতে চাইছেন, প্রতিটি মামলার অরিজিনাল নথি তো তার দপ্তরেই থাকার কথা, কারন বিজ্ঞ নিন্ম আদালতের (উজিরপুর সহকারি জজ আদালত এবং জেলা জজ আদালতের ) রায়ের বিরুদ্ধে তো ইউ,এন,ওই মাহমান্য হাইকোর্টে আপিল করেছিলো এবং হেরেও গিয়েছে,এ কারনে তার দপ্তরেই তো সকল মামলার রেকর্ড পত্র থাকার কথা,তার নিজের দপ্তরের কাগজপত্র না দেখে সে শুধু শুধু হিন্দু পরিবারগুলোকে কেন হয়রানি করছে ?
এব্যাপারে উজিরপুরের ইউ,এন,ও ঝুমুর বালার কাছে টেলিফোনে জানতে চাইলে তিনি একটি মিটিংয়ে আছেন বলে জানিয়ে লাইনটি কেটে দেন।