৩০ বছরে দীর্ঘতম দাবদাহ, আরও ৭ দিন বৃষ্টির সুখবর নেই

82

যুগবার্তা ডেস্কঃ ৬ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল টানা দাবদাহ। এত দীর্ঘ দাবদাহ গত ৩০ বছরের মধ্যে দেখা যায়নি। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আরো কমপক্ষে পাঁচ দিন বৃষ্টির সুখবর নেই। আকাশে ছাড়া ছাড়া মেঘ থাকলেও বৃষ্টি হওয়ার মতো যথেষ্ট নয়। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে একটি মওসুমি লঘুচাপ বিরাজ করলেও পশ্চিমা আরেকটি লঘুচাপ ভারতের গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং এর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে বলে বেড়ে চলেছে গরম। অন্য দিকে বাতাসের গতিও যথেষ্ট মন্থর। বাতাসের এ বেগ না পারছে আবহাওয়া ঠান্ডা করতে আর না পারছে মেঘমালা থেকে বৃষ্টি ঝরাতে। সব মিলিয়ে একটি অস্বস্তিকর আবহাওয়ার দিকে চলছে দেশ।
এমন পরিস্থিতিতে গরমের তীব্রতায় খুব দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে বোরো ধানের মাঠ। ফসল রক্ষায় ঘন ঘন সেচ দিতে হচ্ছে কৃষককে। এতে বেড়ে যাচ্ছে ফসলের উৎপাদন খরচ। গরমে বাড়ছে অস্বস্তি, রোগ-ব্যাধি। চার দিকে চলছে পানির জন্য হাহাকার। সিলেট বিভাগে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও দেশের অন্যত্র রাস্তাঘাট শুকিয়ে একেবারে খা খা করছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ৬ তারিখ থেকে শুরু হওয়া দাবদাহটি গতকাল ২০ দিনে অতিক্রম করেছে। গত ৩০ বছরের (১৯৮৬ সাল-২০১৫ সাল পর্যন্ত) মধ্যে এপ্রিলে সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ছিল ২০১০ ও ২০১৪ সালে। ওই দুই বছরই এপ্রিলের গড় তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাকি বছরগুলোর কোনোটিতেই এপ্রিলে গড় তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেনি। কিন্তু চলতি মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত সারা দেশের গড় তাপমাত্রা হিসাব করা হয়েছে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড যশোরে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে দেশের ছয়টি জেলায়। ২৮টি জেলায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। এ হিসাবে গত ৩০ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি কমে গেছে বৃষ্টিপাতও। দেশে ৭৫ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে।
তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর এখনো আশাজাগানিয়া খবর দিতে পারেনি। বরং তাদের পূর্বাভাস শঙ্কা আরো বাড়িয়ে তুলছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা ও মংলা অঞ্চলগুলোয় তীব্র তাপপ্রবাহ চলবে। এছাড়া চাঁদপুর, মাইজদীকোর্ট, শ্রীমঙ্গল অঞ্চলসহ রংপুর ও বরিশাল বিভাগ এবং খুলনা, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের অবশিষ্টাংশের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আরো দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
প্রকৃতির এমন আচরণের বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তাসলিমা ইমাম বলেন, এ সময় সাধারণত বঙ্গোপসাগর থেকে দখিনা বাতাস দেশের ভূখন্ডে প্রবেশ করে বজ্র বৃষ্টি সৃষ্টি করে। কিন্তু এবার তা দেখা যচ্ছে না। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা পশ্চিমা বায়ু এ সময় বাংলাদেশে প্রবেশ করে দখিনা বাতাসকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, মৌলভীবাজারসহ কয়েকটি জেলার দিকে ঠেলে দিয়েছে। আবার উত্তর গোলার্ধের ওপর খাড়াভাবে সূর্য কিরণ দিচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের বিশাল এলাকাজুড়ে এল নিনোর প্রভাবে এ সময় স্বাভাবিক বৃষ্টি হচ্ছে না।
এ দিকে ২১ এপ্রিল আমেরিকান ‘ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড এটমসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-নুয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি ২০১৬ সালটি হতে পারে বিশ্বের সবচেয়ে ঊষ্ণতম বছর এবং এপ্রিল হতে পারে ঊষ্ণতম মাস। তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার কারণে চলতি বছরটি ২০১৫ সালের ঊষ্ণতার রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে। নুয়া চলতি বছরটি গত এক শতাব্দীর মধ্যেও সবচেয়ে ঊষ্ণতম হতে পারে বলেও তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে থাকবে না। আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, ১৯০১ থেকে ২০১৫ সালটি এ অঞ্চলে তৃতীয় ঊষ্ণতম বছর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। অপর দিকে ১৯৬১ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে তাপমাত্রা গড়ে বেড়েছে ০.৬৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।মাছুম বিল্লাহ, আমাদের সময়.কম