২ টাকা করে পত্রিকাগুলো বিক্রি করি

ফজলুল বারীঃ টিংকু ভাইর কথা মনে হলে চোখ ঝাপসা হয়। ১৯৯০ সালের ৩ ডিসেম্বর আমরা রাজপথের সাংবাদিকরা এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের দুটি বুলেটিন পত্রিকা রেডি করেছিলাম। কিন্তু পেস্টিং-সেলোফিন তৈরি শেষে ঝামেলায় পড়লাম বুলেটিন ছাপা নিয়ে। এরশাদের ভয়ে কোন প্রেস মালিক সেগুলো ছাপতে রাজি হচ্ছিলোনা। খবর পেয়ে টিংকু ভাই এসে সেলুফিন দুটি আমাদের কাছ থেকে নিয়ে যান। তিনি ডাঃ জাহাঙ্গির সাত্তার টিংকু। তখন জাতীয় ছাত্রলীগ এবং কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম প্রধান নেতা। সেলুফিন নিয়ে আরামবাগের এক গলিতে বিশ্বস্ত কর্মীদের নিয়ে প্রহরা বসালেন টিংকু ভাই। এক প্রেসে যতোক্ষন ছাপার কাজ চলছিল ততোক্ষন তারা পাহারা দিয়েছে গোটা এলাকা। এভাবে ছাপা পত্রিকা আমাদের কাছে দিয়ে যান টিংকু ভাই। ৪ ডিসেম্বর প্রেসক্লাবের সামনে একটি ট্রাকে দাঁড়িয়ে আমরা ২ টাকা করে পত্রিকাগুলো বিক্রি করি। এরশাদের একটি নির্দেশের প্রতিবাদে সব পত্রিকা বন্ধ থাকায় পাঠকরা ছিলেন বুভুক্ষ। মূহুর্তে আমাদের সব পত্রিকাগুলো বিক্রি হয়ে যায়। কথা ছিল ৪ ডিসেম্বর আবার আমরা পত্রিকার কাজ করবো। সে সিদ্ধান্তের কারনে লেখা-কম্পোজের কাজও হয়েছিল। কিন্তু রাতে এরশাদের পদত্যাগের ঘোষনা আসায় জাতীয় পত্রিকাগুলো প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়ায় আমাদের পত্রিকা প্রকাশের প্রয়োজন থেমে যায়। টিংকুভাই এমন আমাদের অনেক কাজে সহায়তা করতেন। তিনি আজ নেই। তার সহযোগিতার কথাগুলো মনে হলে কৃতজ্ঞতার কান্না ছাড়া তাকে দেবারও কিছু নেই। অনেক ভালো থাকবেন প্রিয় টিংকু ভাই।-লেখকঃ সাংবাদিক ও সিডনী প্রবাসী