২৫ বছরেও প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্ভব নয়

50

যুগবার্তা ডেস্কঃ সরকার প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার ঘোষণা দিলেও আগামী ২৫ বছরের মধ্যে দেশের বেশিরভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি এবং উচ্চ বিদ্যালয়ে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি চালু করা সম্ভব হবে না বলে মনে করে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি। আজ সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আশংকা প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, সরকারের এ ঘোষণা প্রত্যন্ত অঞ্চলে আদৌ বাস্তবায়ন সম্ভব কিনা ভেবে দেখতে হবে। পূর্ব প্রস্তুতি না নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি চালু করা হলে শিক্ষাব্যবস্থায় ভারসাম্য নষ্ট হবে। নজিরবিহীন বিশৃংখল পরিবেশ তৈরীসহ শিক্ষার মান নিম্নমুখী হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষাখাতে জাতীয় বাজেটে জিডিপি’র ৬ ভাগ বরাদ্দের দাবি জানানো হয়। পাশপাশি জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ বাস্তবায়নের লক্ষে শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি জানানো হয়।
মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ইউনেস্কোর আন্ত:রাষ্ট্রীয় শিক্ষামন্ত্রীদের সভায় শিক্ষাখাতে ৬ ভাগ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও দেশের জাতীয় বাজেটে এ যাবতকালে ২ দশমিক ১ থেকে দুই দশমিক ৩ ভাগের বেশি বরাদ্দ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকার বছরে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেন। এর সঙ্গে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করলে শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ সম্ভব। এতে ইউনেস্কো ও আইএলও সনদের শর্তও পূরণ হবে।
দুর্নীতি রোধ ও সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই ওই পাঁচ হাজার কোটি টাকার সংস্থান করা সম্ভব বলে উল্লেখ করে মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ বিলম্বিত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম ও সহ-সভাপতি রঞ্জিত কুমার সাহা।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সহ-সভাপতি অ্যধক্ষ বজলুর রহমান মিয়া, আলী আজগর হাওলাদার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. কাওসার আলী শেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সিদ্দিকুর রহমান শামীম, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখ।