২১ আগস্ট মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার তাগিদ

যুগবার্তা ডেস্কঃ একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে আইনমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট।

ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।

দীর্ঘ দিন ধরে একুশে অগাস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা আইনমন্ত্রী ও বিচারকার্যে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাব, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের কাজ শেষ করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য।

“আমরা আশা করব, বর্তমান সরকারের আমলেই একুশে আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ হবে।”

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভায় দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে চালানো গ্রেনেড হামলায় দলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন।

হামলায় গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন শতাধিক। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তার শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়।

এই হামলার বিচারের কোনো উদ্যোগ না নেওয়া তৎকালীন সরকারের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাসিম বলেন, “বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় বিচার তো দূরের কথা তদন্ত পর্যন্ত হয়নি।

“তখন ক্ষমতায় ছিল খালেদা জিয়া। হাওয়া ভবনের সেই দুঃশাসনের কথা মানুষ ভুলে যায়নি। তাদের সরাসরি নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছিল।”

গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মতিঝিল থানার এসআই ফারুক হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল ও সাবের হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় তিনটি মামলা দায়ের করেন যাতে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানসহ বিএনপির কয়েকজন নেতাও আসামি।

বিএনপি আমলে ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালে সিআইডি অভিযোগপত্র দিলে বিচার শুরু হয়। এরপর অধিকতর তদন্ত শেষে ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার আদালতে মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ‌্যগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। সর্বশেষ গত ৯ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা ফজলুল কবীরকে জেরা করা শেষ হয়েছে।

এই মামলার আসামিদের মধ‌্যে খালেদা জিয়ার ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা প্রাক্তন বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ ও প্রাক্তন ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম জামিনে রয়েছেন।

অন্যদিকে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, প্রাক্তন উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, হুজি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২৫ জন কারাগারে।

বিএনপির জ‌্যষ্ঠে ভাইস চেয়ারম‌্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস‌্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ আসামি পলাতক।

এছাড়াও আসামি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ। তিনি একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পর তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

একুশ অগাস্ট হামলার স্থলে অস্থায়ী বেদীতে রোববার বিকালে নিহতদের প্রতি ১৪ দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচির পাশাপাশি সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদবিরোধী ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেন নাসিম।

এর অংশ হিসেবে ১ সেপ্টেম্বর মানিকগঞ্জ, ২৩ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা, ২৪ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাট ও ২৫ সেপ্টেম্বর নওগাঁয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেন নাসিম।

“তার (জিয়া) দল দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকাকালে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়। খুনি মোশতাকের ইনডেমনিটি ধারণ করেছিল জিয়া, এরশাদ ও বেগম খালেদা জিয়া। শেখ হাসিনার আমলে ৯৬ সালে বিচারের কাজ লোয়ার কোর্টে শেষ হয়েছিল। আপিল যখন উচ্চ আদালতে গেল তখন ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত।

“এই ধরণের অসত্য কথা বলে মির্জা ফখরুলের দল বিএনপি। আপনারা কিন্তু জনগণের কাছে ক্ষমা পাবেন না। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আপনারাই আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন, এখনও দিচ্ছেন। জামায়াতের সঙ্গে আপনারাই জোট করেছেন। এখনও জঙ্গিদের জন্য মায়াকান্না করছেন। সুতরাং এ কথা বলে কোনো লাভ হবে না।”

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কেন্দ্রীয় নেতা সুজিত রায় নন্দী, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাসদ (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান ও গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।