২০ রোজার মধ্যে গার্মেন্ট শ্রমিকদের এক মাসের মূল মজুরির সমপরিমাণ ঈদ বোনাস দিতে হবে

60

যুগবার্তা ডেস্কঃ শুক্রবার গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র বাড্ডা-রামপুরা-খিলগাঁও আঞ্চলিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশ থেকে আগামী ২০ রোজার মধ্যে দেশের সকল গার্মেন্ট শ্রমিককে এক মাসের মূল মজুরির সমপরিমাণ ঈদ বোনাস পরিশোধ করার দাবি জানানো হয়। সমাবেশে বক্তারা আগামী বাজেটে গার্মেন্ট শ্রমিকদের জন্য আবাসন, রেশনিং ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের দাবি জানান।
গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের বাড্ডা-রামপুরা-খিলগাঁও আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি দিদারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং শ্রমিক নেতা হাবিব হাসিবুর রহমান রিফাতের সঞ্চালনায় আবুল হোটেলের সামনে বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা জলি তালুকদার, আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এম এ শাহীন, আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নেতা মঞ্জুর মঈন, শ্রমিক নেতা আবু বকর, মো. জাহাঙ্গীর, শাহনাজ বেগম, আফরোজা আক্তার প্রমুখ।
সমাবেশে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা জলি তালুকদার বলেন, এই দেশে সবচেয়ে বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন গার্মেন্ট মালিকরা কিন্তু শ্রমিকদের পাওনার কথা আসলে তারাই সবচেয়ে বিত্তহীন হয়ে যান। অথচ মালিকরা ঈদ উপলক্ষে কানাডা-আমেরিকা-মালয়েশিয়ায় পারি জমান কেনা-কাটা ও ঈদ উদযাপনের জন্য। প্রতি বছর ঈদ উৎসবের সময় গার্মেন্ট শ্রমিকরা উৎসব বোনাস থেকে বঞ্চিত হয়। কিছু কারখানায় বোনাস দেয়া হলেও তা নামমাত্র, কখনো কখনো দান-খয়রাতের মত বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তিনি আরো বলেন, দেশে জনপ্রশাসন ও সেবা খাতে এবং সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী মূল মজুরির সমান উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন। অথচ সিংহভাগ রপ্তানী আয়ের কারিগর, সর্ববৃহৎ উৎপাদন খাত গার্মেন্ট শিল্পের শ্রমিকরা বরাবরই বঞ্চিত। তিনি আরো বলেন, একদেশে দুই নিয়ম চলতে পারে না। তিনি আগামী ২০ রোজার মধ্যে সকল গার্মেন্ট কারখানায় এক মাসের মূল মজুরির সমপরিমাণ ঈদ বোনাস পরিশোধের দাবি জানান। একই সাথে শ্রমিকরা যাতে কোনভাবেই বঞ্চিত না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহকে তাদের দায়িত্ব অনুযায়ী সচেষ্ট হওয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি আগামী জাতীয় বাজেটে গার্মেন্ট শ্রমিকদের আবাসান, রেশনিং ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের দাবি জানিয়ে বলেন, যে শ্রমিকদের উদয়অাশ্রমে আর অবদানে দেশের অর্থনীতি সচল আছে তাদের জন্য আজ পর্যন্ত কোনদিন পৃথক বরাদ্দ দেয়া হয়নি। অথচ মালিকরা কর রেয়াত, শুল্ক অবকাশসহ সকল প্রণোদনা ভোগ করেন। তিনি এসব দাবিতে সকল গার্মেন্ট শিল্পাঞ্চলে পক্ষএকালব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।