২০১৫-র সেরা বঙ্গ-সাহসিনী কি ইনি?

138

যুগবার্তা ডেস্কঃ লাস্যময়ী চেহারাটার ছবি দেখে চমকে গিয়েছেন তো? দাঁড়ান, চমকানোর এখনও বাকি আছে। ইতিহাস নিয়ে স্নাতকোত্তর করা এই মেয়ে আইসিএসসি পরীক্ষায় ইতিহাস আর বাংলায় সর্বভারতীয় টপার হয়েছিলেন। স্কুলে থাকতেই শুরু হয় তাঁর অভিনয়-জীবন। ছবি আঁকা ছাড়া তাঁর আর এক নেশা ঘুরে বেড়ানো। পৃথিবীর নানা জায়গায়।
নতুন প্রজন্মের টলি স্টারদের অন্যতম প্রতিনিধি তিনি। অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী। টাইটস আর কালো রঙের ক্রাম্পলড রেসার ব্যাক টি শার্ট। সঙ্গে মানানসই অ্যাকসেসরি। কাঁধে আলগা ফেলা একটা স্টোল। শ্যুট করতে আসা ঝরঝরে ঋতাভরীকে দেখে বোঝাই যায়নি কী চমক অপেক্ষা করে আছে। মেক আপ আর চুলটা ঠিকঠাক হওয়ার পর সেই ঋতাভরীই এক অন্য ঋতাভরী।
ছবিতে নিজের সাহসী চরিত্রের জন্য অভিনেত্রী পাওলি যথেষ্ট প্রশংসিত। এক সময় নিজের ফিগার টোন করার জন্য দিনে তিন বার ওয়ার্কআউট করতেন তিনি। সেই পাওলিও কিন্তু চট করে বিকিনি শ্যুট করতে রাজি হবেন না।
ঋতাভরীর এক সময়ের সহ-অভিনেত্রী সোহিনী সরকারের মতে বিকিনি বডি তৈরি করাটা মোটেই সহজ নয়। ‘‘কিংফিশার ক্যালেন্ডারের মডেলরা ছাড়া, আমার তো মনে হয় বিকিনিতে কাউকেই মানায় না। উচ্চতা, সুঠাম লম্বা পা, দারুণ অ্যাব, প্রচুর অ্যাটিটিউড আর আত্মবিশ্বাস ছাড়া বিকিনি ক্যারি করা যায় নাকি!’’ জানান সোহিনী। কথাপ্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘‘কী জানেন তো, এখন পরিচালকেরা স্ক্রিনে ন্যাচারাল লুক দেখানোর ব্যাপারে খোলামেলা হলেও কার্ভি ফিগারটাই তাঁদের বেশি পছন্দের। আমাকেও পরিচালকেরা অনেক বার বলেছেন ওজন বাড়াতে,’’ হাসছিলেন সোহিনী।
সব অভিনেতা যেমন সিক্স প্যাক অ্যাব ফ্লন্ট করতে পারেন না, বিকিনি শরীর তৈরি করাটাও তেমনই অভিনেত্রীদের কাছে সহজ নয়। কলকাতার কিংফিশার ক্যালেন্ডার গার্ল রুনা লাহা তেমনটাই মনে করেন। বললেন, ‘‘দেখুন বিকিনি-বডি বানাতে প্রচুর পরিশ্রম লাগে। খুব কঠিন কাজ। ছবিতে যে ফিগারগুলো দেখেন, তা তৈরি করা মুখের কথা নয়। বিশেষ কোনও শ্যুট থাকলে আগের দিন সন্ধে থেকে আমরা জল পর্যন্ত খাই না। খাবার থেকে নুন পুরোপুরি বাদ। আর ভাবুন, বাঙালি, অথচ মিষ্টির দিকে তাকানোটাও অপরাধ!’’ হাসতে হাসতে বলেন রুনা।
নতুন প্রজন্মের এই অভিনেত্রীরা যেমন ইচ্ছে, তেমন পোশাকেই ক্যারি করেন নিজেদের। কে কী ভাবে তাকাল, কোনও মাথাব্যথাই নেই। নায়িকা পার্নো মিত্র যেমন মনে করেন, আগেকার দিনের অভিনেতাদের মতো ‘আমি স্টার’— তকমাটা ব্যাগেজ ছাড়া কিছুই নয়। ‘‘আগে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন সাধারণ মানুষের কাছে অজানাই থাকত। তবে স্টারেরা এখন সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার ভেতর। বারিস্তা বা সিসিডি-তে আমরা শর্টস পরে চলে যেতে পারি,’’ স্পষ্ট স্বীকারোক্তি পার্নোর। তিনি আরও বলেন, ‘‘আমাদের একটাই মন্ত্র। ফিট থাকা। হয়তো আমাদের সিনিয়ররা এতটা সচেতন ছিলেন না।আনন্দ বাজার