১৯ বছরেও মামলার সুফল পায়নি বরিশালের জালাল

বরিশাল অফিস ॥
নগরীর মধ্যকার ওষুধ তৈরিকারক শিল্প প্রতিষ্ঠান অপসোনিন গ্রুপের পক্ষ থেকে অবৈধভাবে দখল করা জমি ফেরত পাওয়ার আশায় দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা পরিচালনা করে আসছেন ভুক্তভোগী জালাল উদ্দিন হাওলাদার। মামলা নং ১৫১/৯৮। দীর্ঘ ১৯ বছর মামলা পরিচালনা করেও অদ্যবর্ধি তিনি কোন সুফল না পেয়ে অবশেষে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা করে ডাকযোগে খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন।
রবিবার দুপুরে ভুক্তভোগী জালাল উদ্দিন হাওলাদার বলেন, মামলার বিবাদী পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি ন্যায় বিচার চেয়েও বার বার হয়রানির শিকার হচ্ছেন। প্রধান বিচারপতির কাছে লেখা ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে আমি মোকদ্দমা পরিচালনা করে আসছি। ইতোমধ্যে দ্রুত বিচারের স্বার্থে কোর্ট বদলী হয়ে হিজলা সহকারি জজ আদালতে ১০৬/০৭ নং মোকদ্দমায় পরিগনিত হয়ে ২০০৭ সালের অক্টোবর মাসে বাদী পক্ষের স্বাক্ষী জেরা জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। বিবাদী পক্ষও আংশিক স্বাক্ষী দিয়েছে। এরইমধ্যে ৯৮ সালের ৩০ নভেম্বর বাদী পক্ষের দরখাস্ত অনুযায়ী কোর্ট নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করলে উক্ত আদেশ অমান্য করে ডিসেম্বর মাসে কোর্ট বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে বিবাদী পক্ষ বিরোধীয় ভূমিতে বাউন্ডারী দেয়াল নির্মাণ করে। পরে বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত উকিল কমিশনার নিযুক্ত করে প্রমান সাপেক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩৬/৯৯ নং ভায়ালেশন মোকদ্দমা যা বর্তমান কোর্ট বদলী ১১/২০১৫ এ পরিগনিত হয়। উক্ত মোকদ্দমা বিবাদীপক্ষ বিভিন্ন অযুহাতে বিলম্বিত করে আসা সত্বেও ২০০৮ সালের ১৩মে ধার্য তারিখে ভায়োলেশন মোকদ্দমা খারিজের দরখাস্ত করলে বিবাদী পক্ষের দরখাস্ত খারিজ করে আদালত। উক্ত খারিজ আদেশ নিয়ে এক বছর বিলম্ব করে বরিশাল জেলা জজ আদালতে ৭২/০৯ সিভিল রিভিশন মোকদ্দমা দাখিল করলে পুনঃরায় জেলা জজ সিভিল রিভিশন খারিজ করেন। এ ঘটনার ১৬৩ দিন বিলম্বিত করে বিবাদী পক্ষ হাইকোর্টে ১৯৮/২০১১ সিভিল রিভিশন দায়ের করেন। উক্ত সিভিল রিভিশন হাইকোর্ট বিভাগ ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর নামঞ্জুর করেন। পরে বিবাদী পক্ষ অসৎ উদ্দেশ্যে মোকদ্দমা বিলম্বিত করার জন্য এবং ভায়োলেশন মোকদ্দমার বিচার কার্য্য এড়িয়ে যাওয়ার জন্য পুনঃরায় কোর্ট বদলী করে বরিশাল সিনিয়র সহকারী জজ আদলতের দেওয়ানী ৮৩/১৫ নং মোকদ্দমা এবং ভায়োলেশন ১১/১৫ নং মোকদ্দমায় পরিগনিত করে। বিবাদী পক্ষ বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে নানা অযুহাতে মোকদ্দমা কালক্ষেপন করছে এবং ভায়োলেশন মামলায় মেন্ডেন্টরি নিষেধাজ্ঞায় জেল জরিমানা অবধারিত বুঝতে পেরে মামলা বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। এমনকি তাকে (জালাল) মামলা পরিচালনা না করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ প্রাননাশের হুমকি অব্যাহত রেখেছে।
সূত্রে আরও জানা গেছে, বিবাদী পক্ষ বরিশাল অপসোনিন ওষুধ কোম্পানীর লিমিটেডের মালিক বিধায় বিভিন্ন প্রকারে মোকদ্দমা ঘুরানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। ভূক্তভোগী জালাল উদ্দিন হাওলাদার বলেন, দীর্ঘদিন মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে আমি এখন নিঃস্ব হয়ে পরেছি। তাই মাননীয় প্রধান বিচারপতির বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বক্তব্য শুনে পূর্ণরায় আমি আস্থা ফিরে পেয়ে খোলা চিঠি প্রেরণ করেছি। তিনি আরও বলেন, আমি আশা করছি প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপে আদালতের কালক্ষেপনের হয়রানী থেকে মুক্ত হয়ে আমি সীমিত সময়ের মধ্যেই সঠিক বিচার পাবো।