হারতা বাজারে ডাকাতির ঘটনায় নিহতের স্মরণে দু’দিনের শোক ঘোষনাঃ ডাকাত সন্দেহে আটক ২

82

কল্যান কুমার চন্দ,বরিশাল.
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা উত্তরপাড় বাজারের মাছের আড়ৎ গুলোতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বৃষ্টিরমত ফাঁকাগুলি ছুড়ে ও হাত বোমার বিস্ফোরন ঘটিয়ে সংঘটিত ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনায় সন্দেহজনক ভাবে ২ ডাকাতকে আটক করেছে উজিরপুর থানা পুলিশ। এরমধ্যে গৌরনদী উপজেলার বিল্বগ্রাম এলাকার বন্দেআলী খন্দকারের ছেলে আক্তার খন্দকারকে বুধবার রাতে মাহিলাড়া ইউনয়নের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে তার গ্রামবাসীদের সাথে নিয়ে আক্তারকে আটক করে পুলিশে খবর দিলে উজিরপুর থানা পুলিশ তাকে তাদের হেফাজতে নেয়,অন্যদিকে আক্তারের স্বীকারউক্তি মোতাবেক উজিরপুর উপজেলার যুগিরকান্দা এলাকার সুমন নামে একজনকে ওই রাতেই আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে ডাকাতের হামলায় মাছের আড়ৎের সভাপতি সোহরাব বেপারী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে হারতা বাজার কর্তৃপক্ষ ২ দিনের শোক কর্মসূচী ঘোষনা করে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় হারতা বাজারে এক শোকসভা ও আইন শৃংখলা পরিস্থিতি সাভাবিক রাখতে এক সভা অনুষ্টিত হয়েছে । হারতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ডাঃ হরেন রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোক ও আইন শৃংখলা সভায় বক্তৃতা করেন উজিরপুর থানার এস,আই মোঃ জসিম উদ্দিন খান,ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শুনিল কুমার বিশ্বাস,সম্পাদক অমল মল্লিক,যুবলীগ নেতা পরিমল সাহা,মিন্টু লাল মজুমদার,ইউপি সদস্য কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈ,ফারুক হোসেন তালুকদার,নিখিল চক্রবর্তি প্রমুখ।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্য মোঃ গোলাম সরোয়ার এবং ডাকাতি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং উজিরপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ ইকবাল হোসেন সংবাদকে জানিয়েছেন উজিরপুর থানার হারতা বাজারের এ ডাকাতির ঘটনাটি গোটা বরিশাল জেলার একটি দুধর্ষ ডাকাতির ঘটনা,এ ঘটনাকে ছোট করে ভাবার কোন কারন নেই,তবে এ মামলায় প্রকৃতভাবে জরিতদেরকেই গ্রেফতারের জন্য বরিশাল জেলা পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছে, একারনেই আটককৃতদের সন্দেহজনক ভাবে তাদের ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেই পরবর্তি ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
অন্যদিকে হারতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শুনিল কুমার বিশ্বাস ও সম্পাদক অমল মল্লিক সহ একাধিক নেতৃবৃন্দ এবং ব্যাবসায়ীরা হারতা পুলিশ ক্যাম্পের প্রত্যাহারকৃত পুলিশ সদস্যদের ডাকাতির ঘটনায় পরোক্ষভাবে জরিত থাকার দাবী করে পুনরায় তারা ওই পুলিশ সদস্যদেরও সন্দেহের তালিকায় রাখার দাবী জানিয়েছেন। উল্লেখ্য যে গত ২২ নভেম্বর সন্ধ্যায় উজিরপুরের হারতা বাজারের মাছের আরৎে বৃষ্টির মত গুলি ও বোমা ফাটিয়ে ১৭টি মাছের আড়ৎ (গদি) থেকে কোটি টাকার বেশি লুট করে নেয় মুখোশধারী সশস্র ডাকাতদল,ডাকাতদের গুলি ও বোমার আঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন মাছের আড়ৎের সভাপতি মোঃ সোহরাব বেপারী এবং কমপক্ষে ২৫ জন গুরুতর আহত হয়েছিলো।