হানাদার-দোসর কারা, বললেন না খালেদা-রওশন

122

যুগবার্তা ডেস্কঃ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হানাদার ও তাদের দোসরদের হাতে শহীদ হন বুদ্ধিজীবীরা। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাও জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু এই হানাদার ও তাদের দোসর কারা, সে ব্যাপারে কিছু বলেননি তিনি। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদও তাঁর বাণীতে হানাদারদের হাতে বুদ্ধিজীবীদের শহীদ হওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু হানাদারের কোনো ব্যাখ্যা নেই তাঁর বাণীতেও।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামী কখনোই পাকিস্তানি হানাদার বা তাদের দোসর আলবদর, আল শামস ও রাজাকারদের কথা উল্লেখ করেনি।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে। তারা এ দেশের মানুষের কাছে পাক হানাদার বা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হিসেবে পরিচিত। আর তাদের দোসর বলতে এ দেশের স্বাধীনতাবিরোধী মানুষের গড়া কুখ্যাত রাজাকার, আলবদর ও আল শামস বাহিনীকে বোঝায়। বুদ্ধিজীবী হত্যায় পাক হানাদারদের পাশাপাশি আলবদর ও আল শামস বাহিনীর ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্ট্রি ডা. সারওয়ার আলী প্রথম আলোকে বলেন, এটি ধারাবাহিকভাবে ইতিহাস বিকৃতি ও সত্য গোপনের চেষ্টা। ১৯৭৫ সালের পর পাঠ্যপুস্তকে ‘হানাদার’ শব্দটি যুক্ত করা হয়। তখন পাকিস্তানি বাহিনীর পরিবর্তে এটা আনা হয়। ওই সময় দোসর জামায়াত ও তাদের ছাত্র সংগঠনের নামও আনা হতো না। পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতার কথা লেখা হতো না। এখন শীর্ষ নেতারা যেটা বলছেন, তা দীর্ঘ সময় ধরে ইতিহাস বিকৃতি ও সত্য গোপনের চেষ্টারই অংশ।
শহীদ বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের ছেলে সাংবাদিক জাহীদ রেজা নূর বলেন, যারা হানাদার ও দোসরদের দায়ী করেন তাদের মধ্যে বাংলাদেশের জন্ম ও অস্তিত্ব নিয়ে সংশয় আছে। এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার আর সুযোগ নেই। তাদের স্পষ্ট করতে হবে, বলতে হবে, পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও দোসর আলবদর, আল শামস ও রাজাকাররা হত্যা করেছে। এটা বলতে না পারলে তাদের এ নিয়ে বাণী-বিবৃতি দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার জন্য সে সময়ের আলবদর বাহিনীর শীর্ষ নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়েছে। আরেক অপরাধী আলবদর নেতা মতিউর রহমান নিজামীকে ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছে। এটি এখন আপিল বিভাগে রায়ের অপেক্ষায় আছে।
এদিকে, আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যাননি রওশন এরশাদ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিরোধীদলীয় নেতার জনসংযোগ কর্মকর্তা মামুন হাসান বলেছেন, দলের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। প্রথম আলো