হাত বাড়ান সবাই

49

ফজলুল বারীঃ ছেলেবেলায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক পা এক হাত হারিয়েছে আমাদের এই মুন্না। তার জন্যে কিছু করতে চেয়ে যখন প্রথম একটা পোস্ট দিলাম তখন ইনবক্সে আমাদের এক বোন উৎসাহ দিয়ে বললেন প্লিজ ছেলেটির জন্য কিছু একটা করুন। আমার হাত খরচের টাকা থেকে আমিও শেয়ার করবো। তার অনুপ্রেরনা আমাকে অনুপ্রানিত করে। এসব কাজ আমি প্রথমে নিজের টাকায় শুরু করি। এরপর হাত পাতি মানুষের কাছে।
ঢাকায় আবুলকে দেখাশোনার জন্য আমার যেমন একজন বাহার আছে ময়মনসিংহে মুন্নাকে দেখাশোনার জন্য তেমন একজন দ্বীপকে খুঁজে নেই আমি। প্রথমে দ্বীপের কাছে কিছু টাকা পাঠিয়ে জানতে চাইলাম মুন্না কী কী চায় আমাদের কাছে। কোন দিন কারো ভালোবাসা না পাওয়া মুন্নার ডিমান্ড ছিল গান শুনতে পারে এমন একটি মোবাইল ফোন আর ভালো খাবার। বস্তির ঘরে থাকে পরিবারটি। মা বাসায় বাসায় কাজ করেন। ছেলেটিকে তার পছন্দের খাবার কিনে দিতে পারেননা। মুন্নার এই বিষয়টি আমরা প্রথমেই নিশ্চিত করেছি। পরিবারটির পুনর্বাসনের আগে তাদের আমরা ভাতের কষ্টে থাকতে দিচ্ছিনা। মুন্নার পছন্দের একটা ফোন, নতুন জামাকাপড় দেয়া হয়েছে। খাবার যখন যা লাগে তা পৌঁছে দিচ্ছে দ্বীপ। ঈদে বিশেষ কিছু জামাকাপড়, একটা সানগ্লাস চেয়েছে মুন্না। তাও দেয়া হবে। কারন আমরা যে ভালোবাসাবিহীন ছেলেটাকে ভালোবাসবো বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা আছে মুন্নার। ডাক্তারদের পরামর্শমতো আমরা তার জন্য কাজ করছি। আমাদের এসব কাজ দেখে মুন্নার জন্যে আমেরিকা থেকে দশ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন আমাদের এক ভাই। আর সেই যে আমাদের সেই বোন, যিনি মুন্নার জন্যে কিছু করার অনুপ্রেরনা দিয়েছিলেন, ঈদে তার হাত খরচের টাকা থেকে এক হাজার টাকা দিয়েছেন। এক হাজার টাকা দিয়েছেন আমাদের আরেক ভাই। কত যে কৃতজ্ঞতা সবাইকে।
প্রিয় দেশবাসী, মুন্নাকে আমরা নতুন একটা জীবন দেব। নকল একটা হাত নকল একটা পা উপহার দেব। আর একটা ব্যবসা গড়ে দেবার ইচ্ছা তার মায়ের নেতৃত্বে। এসবের জন্যে আপনাদের সাহায্য করা লাগবে প্রিয় দেশবাসী। আপনার ঈদ বাজেট, জাকাত-ফিতরার টাকা থেকে মুন্নাকে সবাই মিলে কিছু কিছু করে টাকা দিন প্লিজ। আমার যত প্রিয় প্রজন্ম তোমরা পাঁচশ-এক হাজার করেও যদি দাও আমাদের মুন্নার জন্যে একটি ভালো তহবিল হয়ে যাবে। হাত বাড়ান সবাই। প্লিজ। -লেখক: প্রবাসী সাংবাদিক