হাজতে পিটিয়ে হত্যা: এসআই জাহিদসহ ৫ জনের বিচার শুরু

73

যুগবার্তা ডেস্কঃ রাজধানীতে পল্লবী থানা-পুলিশের হেফাজতে ইশতিয়াক হোসেন ওরফে জনির মৃত্যুর অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় ওই থানার তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন আসামির বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার বিকেলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কামরুল হোসেন মোল্লা এ আদেশ দেন। আগামী ১৬ মে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন করে দেন আদালত।
মামলার পাঁচ আসামি- পল্লবী থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমান, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কামরুজ্জামান মিন্টু, এএসআই রাশিদুল ইসলাম এবং পুলিশের সোর্স সুমন ও রাসেল। তাঁদের মধ্যে জাহিদুর কারাগারে। রাসেল পলাতক। বাকি তিনজন জামিনে আছেন।
২০১৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পল্লবী এলাকার একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ইশতিয়াক হোসেনকে আটক করে পল্লবী থানায় নিয়ে যান থানার তৎ​কালীন এসআই জাহিদুরসহ কয়েকজন। তাদের নির্যাতনে ইশতিয়াক মারা যান বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ভাই ইমতিয়াজ হোসেন আদালতে নালিশি মামলা করেন। বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। রোববার আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ইরানি ক্যাম্পে বিল্লাল নামে এক ব্যক্তির গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান ছিলেন জনি। পুলিশের সোর্স সুমন মাতাল অবস্থায় মেয়েদের উত্ত্যক্ত করলে জনি তাকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেন।
তখন ঝগড়ার এক পর্যায়ে জনি চড় মারলে সুমন ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়ে চলে যায় বলে মামলার বাদী রকি জানান, যিনি নিজেও ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন।
তার আধা ঘণ্টা পর এসআই জাহিদসহ কয়েকজন পুলিশ এসে ওই অনুষ্ঠান থেকে জনিকে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তার উপর নির্যাতন চলে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
“জনিকে পল্লবী থানার হাজতে নিয়ে এসআই জাহিদসহ অন্য আসামিরা হকিস্টিক, ক্রিকেটের স্ট্যাম্প দিয়ে মারধর করে এবং জনির বুকের ওপর উঠে লাফায়। জনি পানি চাইলে জাহিদ তার মুখে থুথু ছিটিয়ে দেন।”
নির্যাতনে জনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে ঢাকা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা দেখে বলেন, জনি মারা গেছেন।
মামলার আর্জিতে আরও বলা হয়, নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দিতে আসামিরা পল্লবীর ইরানী ক্যাম্প ও রহমত ক্যাম্পের মধ্যে মারামারির মিথ্যা কাহিনী তৈরি করেছিল।
ওই মারামারিতেই রকিসহ কয়েকজনকে গুরুতর আহত ও জনি নিহত হন উল্লেখ করে এসআই শোভন কুমার সাহা (আসামি) পল্লবী থানায় একটি মামলাও করেন।
ওসি জিয়াউর রহমান ওই মামলাটিকে এজাহার হিসাবে গ্রহণ করে ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিয়ে যান বলে বাদীর আর্জিতে উল্লেখ করা হয়েছিল।
নিহত জনির ভাই রকি আদালতে মামলা করলে জজ মো. জহুরুল হক বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। গত ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন তিন পুলিশ কর্মকর্তা ও দুই সোর্সের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
আরেক ঝুট ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান সুজনকে ২০১৪ সালের জুলাইয়ে মিরপুর থানায় এনে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন এসআই জাহিদ।
এ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি আবদুল্লাহ আবু জানান, সুজন হত্যা মামলায় এ আদালতেই সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।