হাওর অঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি

যুগবার্তা ডেস্কঃ মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্বাব এর সামনে নাগরিক সংহতি, ও গস্খামীণ জীবনযাত্রার স্থায়ীত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল) পক্ষ থেকে এক নাগরিক সমাবেশে হাওর এর বন্যা আক্রান্ত এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষনা করার দাবী জানানো হয়েছে। নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রুহিন হোসেন প্রিন্স, আনোরুল ইসলাম বাবু, প্রদীপ কুমার রায়, মনেন চৌধুরী, রফকিুল ইসলাম আব্দুল আজিজ প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তরা বলেন, হাওর অঞ্চলে সম্প্রতি বাঁধ ভেঙ্গে কেবল সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনায় ২ হাজার ৫৩ কোটি টাকার ফসলহানি হয়েছে। এই ফসলহানির জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দায়ী ।
সমাবেশে বলা হয়, হাওরের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো সঠিক সময়ে এবং টেকসই কায়দায় ফসল রক্ষাবাঁধ তৈরি এবং মেরামত না করা। এ কাজটি না করায় ২০০১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রায় আটবার হাওরের কৃষক তার ফসল ঘরে তুলতে পারেনি। অথচ এই এক ফসলি বোরোধানের উপরে হাওরবাসী নির্ভরশীল। অন্যদিকে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই বোরো ফসল বিরাট ভূমিকা পালন করে।
সুমানগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফসল রক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজের বিষয়ে নানা মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাধের নির্মান কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলে ও অনেক জেলায় দেরিতে কাজ শুরু হয়েছে। সময়মত কাজ শেষ না হওয়ার ফলে অনেক বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কিন্তু মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহেও অনেক বাঁধের নির্মাণ কাজই শুরু হয়নি। আমরা জেনেছি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা পিআইসির তুলনায় ঠিকাদারের মাধ্যমে বাঁধের কাজ করাতে উৎসাহী ছিলেন। নিম্নমানের কাজ, কিছু প্রয়োজনীয় জায়গায় বাঁধ নির্মাণ বা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, আবার অপ্রয়োজনীয় জায়গায় বাঁধের নির্মাণ কাজ লক্ষ্য করা গেছে।
বক্তরা বলেন এবারের বাঁধ বিপর্যয়ের কারণে (কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে) সুনামগঞ্জ জেলার ২,২৩,০৮২ হেক্টর আবাদকৃত জমির মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ১,১৩,০০০ হেক্টর, এছাড়া নেত্রকোনার মাত্র একটি বাঁধ এখন পর্যন্ত টিকে আছে বাকি সব বাঁধ ভেসে গেছে। নেত্রকোনা কিশোরগঞ্জ, সুমানগঞ্জ, এই তিন জেলায় পানিতে ডুবে গেছে ১,৭১,১১৫ হেক্টর জমির ধান। এতে ২ কোটি ৫ লক্ষ মণ ধান কৃষকের ঘরে উঠছে না। এতে ক্ষতির মোট ক্ষতির পরিমাণ ২ হাজার ৫৩ কোটি টাকা।
অসমাপ্ত এবং দুর্বল বাঁধের কারণে বাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকেছে ফলে ফসলি জমি তলিয়ে গেছে এতে কৃষক যেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেমনি বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকির মুখে পড়েছে তা হয়ত এখন আমরা অনুভব করতে পারছিনা।
সমাবেশে হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাকে দুর্গত অঞ্চল ঘোষণা, পরবর্তী ফসল না উঠা পর্যন্ত স্বল্প দামে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচী চালু, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর কার্যক্রম হাওরে বিস্তৃত করা, বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতি রোধে একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার দাবী জানানো হয়।