হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি

41

যুগবার্তা ডেস্কঃশনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক নাগরিক সমাবেশ থেকে বক্তারা হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ দ্রুত শেষ করার ও টেকসই বাঁধ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
সিএসআরএল, নাগরিক সংহতি ও অক্সফাম-এর আয়োজনে এই সমাবেশে বক্তারা বলেন, হাওরের বোরো ধান আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ধান কৃষকের ঘরে ওঠার সাথে ফসল রক্ষা বাঁধের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সঠিক সময়ে এবং টেকসই পদ্ধতিতে বাঁধ নির্মিত না হলে হাওরের কৃষক বহু শ্রমে উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলতে পারেনা। দেখা গেছে ২০০১ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ১০ বছরের মধ্যে পাঁচবার পাহাড়ি ঢলের কারণে কৃষকের ঘরে ফসল যায়নি। ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হচ্ছে সঠিক সময়ে বাঁধ নির্মাণ করা। ভারতে অতি বৃষ্টি হলেই বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলের কৃষি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফ এর সভাপতিত্ত্বে অনুষ্ঠিত নাগরিক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কৃষিবিদ নিয়াজ উদ্দিন পাশা, জীবনানন্দ জয়ন্ত, ঢাকাস্থ সুনামগঞ্জ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোকাম্মেল হোসেন চৌধুরী মেনন, বাংলাদেশ কৃষক সমিতির মানবেন্দ্র দেব, মোফাকখারুল ইসলাম তৌফিক, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী, মোঃ জমির প্রমূখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “অন্যান্য বছর দেখা যেত হাওরে বাঁধ নির্মাণের জন্য সঠিক সময়ে অর্থ বরাদ্দ হতনা। কিন্তু গত ৩ বছর ধরে সরকার সঠিক সময়ে অর্থ বরাদ্দ দিলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণে বাঁধ নির্মাণ কাজ গতি পাচ্ছেনা। ২৮ শে ফেব্রুয়ারী বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তার মানও সন্তোষজনক নয়। গত বছর সুনামগঞ্জে ২২ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল এবছর ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কিশোরগঞ্জে প্রায় ২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সেখানেও কাজের গতি সন্তোষজনক নয়। গত সপ্তাহে মাননীয় পানি সম্পদ মন্ত্রী সুনামগঞ্জ সফরে গিয়ে ১০ মার্চের মধ্যে সব বাঁধের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড সেই নির্দেশ মেনে কাজ করেনি। বক্তারা বলেন, বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভাঙ্গা না গেলে হাওরের ফসল হানীর ঝুঁকি থেকেই যাবে। সমাবেশ থেকে বক্তারা দ্রুত বাঁধ নির্মাণ শেষ করতে সরকারের দৃষ্টি কামনা করেন।