হত্যার বিচারে নির্বিকারত্ব বাংলাদেশ ভারতের জন্য বিপদ ডেকে আনবে

41

যুগবার্তা ডেস্কঃ ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ধর্মনিরপেক্ষ লেখক, ব্লগার, অধ্যাপক, কয়েকজন বিদেশি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৩৫ জনকে হত্যা করা হয়। এর মধ্যে আল-কায়দা ও আইএস ২৩ জনের দায় স্বীকার করে। তবে বাংলাদেশ সরকার কোনোভাবেই আন্তঃরাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসীদের শরীক থাকার কথা স্বীকার করে না। সব সময়ই বাংলাদেশের এক কথা, এসব সন্ত্রাসী স্থানীয় বাংলাদেশি।
বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতার পরিচিতি থাকা সত্ত্বেও ২০১৩ সাল থেকে আওয়ামী লীগ ইসলামপন্থীদের সঙ্গে সমঝোতা করে চলছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৈতিক পরাজয় ঘটেছে। এই নির্বাচন বিরোধীরা বর্জন করেছিল।
এ কারণে ইসলামপন্থীদের উপর সরকারের নির্ভরতা বাড়ছে। এমনকি হত্যাকান্ডের ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিও পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে জনগণ বিষয়টি ভালভাবে নিচ্ছে না। জনগণের অনুভূতি হল হত্যাকান্ডের ব্যাপারে সৃষ্ট জনমতের প্রতি সরকার যেন শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন।
জনমনে ও রাজনীতিতে ধর্মের ভূমিকার বিয়য়টি বাংলাদেশে অমীমাংসিত। গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি বিরোধীদের প্রতি কঠোর মনোভাব এবং ইসলামপন্থীদের সঙ্গে সমঝোতা, ভয়ংকর সন্ত্রাসী গ্রুপের পুনরুত্থান একই সঙ্গে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসীদের নিয়োগ দানে পরিস্থিতি এক কথায় জটিল।
বাংলাদেশে আল-কায়দা ও আইএসের সক্রিয় কার্যক্রম এবং লোক নিয়োগের ভুরি ভুরি প্রমাণ বিদ্যমান। সবকিছু দেখে শুনে নির্বিকারত্ব এবং চোখ বুজে থাকা বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য সমূহ বিপদ ডেকে আনতে পারে।
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভারত নিজেকে শক্ত অবস্থানে উন্নীত করতে পারে। ভারতকে স্মরণে আনতে হবে অতীতে ধর্মীয় কট্টরপন্থীদের মোকাবিলায় তাকে কি পরিমাণ শক্তি ক্ষয় করতে হয়েছে। উদার গণতন্ত্রের সঙ্গে যায় না বা ক্ষতিকর এমন শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে বেড়ে ওঠা পরিণামে গণতন্ত্রকেই ধ্বংস করে।কায়কোবাদ মিলন, আমাদের সময়.কম