স্রোতঃ

14

সাইফুল ইসলাম শিশিরঃ সকালে মাছের বাজারে গিয়েছিলাম। মৎসজীবি দলের নেতা নূরুল ইসলাম নূরুর সাথে দেখা। দেখা হতেই চেয়ার টেনে বসতে দিল। চোখে মুখে তার আত্মবিশ্বাসের ছাপ।

  • “নেতা এবারতো বাতাস ভালোই মনে হচ্ছে। নির্বাচন দিলে হ্যাগো ঘটিবাটি- চালান আউট।”

প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে নূরুল ইসলামদের দল ক্ষমতার বাইরে। ইতোমধ্যে হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে হামলা- মামলা ঝুলছে। সে এক নাকাল অবস্থা। নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি ছাড়া। জমিজমা- ঘটিবাটি বিক্রি করে মামলা চালাতে গিয়ে অনেকেই আজ সর্বশান্ত। আদালতের বারান্দা আর জেলখানা তাদের ঠিকানা। তবু নরুরা স্বপ্ন দেখে। দেশে একটা সুন্দর নির্বাচন হবে। আশায় বুক বাঁধে। বুক চিতিয়ে দাঁড়ায়।

ইতোপূর্বে বিরোধী দল পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে চিংড়ি মাছের মস্তক মনে করে চিংড়ি মাছের গু খেয়েছে। শুধু জনস্রোত দেখলে চলবে না। নাক- কান খোলা রেখে ষড়যন্ত্র বুঝতে হবে। ” ষড়যন্ত্রকারী ও মূর্খরা একসাথে হাঁটে।” তাই অলি বারবার ফিরে আসে অলি বারবার ফিরে যায়। স্রোতের কথা মনে হতেই একটি ঘটনা মনে পড়লো।

গ্রামের এক চাচা খরস্রোতা নদীতে গোসল করতে নেমেছেন। স্রোতের টানে কখন লুঙ্গি খুলে গেছে তা তিনি টেরই পাননি। পাড়ে উঠে তিনি লুঙ্গি খুঁজছেন। পাশের জন বলছে চাচা মিয়া, স্রোতে আপনার লুঙ্গি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
হারে বা আমিতো জানি স্রোত পানির উপর দিয়ে থাকে। খড়কুটো ভাসায়া নিয়া যায়। স্রোত যে পানির নিচেও থাকে তাতো জানি নারে বা!


৫ অক্টোবর, ২০২১ সাল
থানা রোড, সিরাজগঞ্জ-৬৭০০