Home রাজনীতি স্মার্ট বাংলাদেশ স্লোগানের অন্তরালে চলছে স্মার্ট দুর্নীতি : প্রিন্স

স্মার্ট বাংলাদেশ স্লোগানের অন্তরালে চলছে স্মার্ট দুর্নীতি : প্রিন্স

14

স্টাফ রিপোটার: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক, বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক জননেতা কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ স্লোগানের অন্তরালে দেশে চলছে স্মার্ট দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজি, দালালি আর ভয়ের রাজত্ব। এই জুলুমশাহি ধারাকে অব্যাহত রাখতে একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েম করা হচ্ছে যেখানে ভিন্ন কোনো রাজনৈতিক মত ও পথকে সহ্য করা হচ্ছে না। এ ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে লোভ আর ভয়কে উপেক্ষা করে সর্বত্র অন্যায় অবিচার রুখে দাঁড়াতে হবে। এজন্য বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে নিজেদের সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে বাঁচার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ লড়াই গড়ে তুলতে হবে। দুর্নীতি, লুটপাটকারী আর তাদের পাহারাদারের দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। প্রহসনের এই ডামি নির্বাচন অবিলম্বে বাতিল করে নির্দলীয় সরকারের অধিনে নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।
আজ ২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার, বিকেল ৪টায় ঢাকার কাফরুলের ভিশন ফ্যাক্টরির মোড়ে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি কমরেড ডা. সাজেদুল হক রুবেলের সভাপতিত্বে এবং সম্পাদকম-লীর সদস্য কমরেড ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জননেতা কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স। এছাড়া আরও বক্তব্য প্রদান করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক কমরেড লূনা নূর, সম্পাদকম-লীর সদস্য কমরেড মোতালেব হোসেন, কমরেড জয়নাল আবেদিন, জেলা কমিটির সদস্য কমরেড আলী কাউসার মামুন প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জননেতা কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স আরও বলেন, সংসদে যাওয়া অধিকাংশ রাজনীতিক বিনাপুঁজির লাভজনক ব্যবসায়ী কারণ তারা বিনাভোটে নির্বাচিত। আর বর্তমান সংসদতো পুরোই ব্যবসায়ীদের দখলে। এবারের একদলীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামায় এটা পরিস্কারভাবে ফুটে উঠেছে। সাজানো ভোটের এই একদলীয় সংসদ চলতে থাকলে আরও আইন প্রনীত হবে লুটেরা ব্যবসায়ী আর কর্তৃত্ববাদী শাসনের স্বার্থে। সাধারণ মানুষের স্বার্থ হবে উপেক্ষিত। বর্তমান ও বিভিন্ন সময় ক্ষমতায় থাকা শাসকগোষ্ঠী নিজেদের পরিবার, গোষ্ঠী, দলের অনেকের উন্নয়ন করলেও গণমানুষের উন্নয়ন হয়নি। আর যে উন্নয়ন হয়েছে সেটা অনেকটা লুটপাটের চুইয়ে পড়া ভাগ থেকেই। মানুষ ভোটাধিকার বঞ্চিত, সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি দৈনন্দিন ঘটনায় পরিণত হয়েছে। জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নেই। শিক্ষা, চিকিৎসার বেহাল অবস্থা। অথচ টাকা পাচার, খেলাপি ঋণ আর প্রকল্পের নামে জনগণের টাকা লুটপাট থেমে নেই। এ অবস্থার অবসানে পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। নির্বাচন ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে। এটা করতে নীতিহীন রাজনীতিকে পরিত্যাগ করে নীতিনিষ্ঠ রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে।
কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, আমাদের দেশ ও কৃষক সমাজ এক ভয়াবহ সংকটে নিপতিত হয়েছে। কৃষকরা ফসলের দাম পাচ্ছেনা, জনগণ ভোটের অধিকার পাচ্ছেনা। আমরা একটি বিকল্প রাজনীতি নির্মাণ করতে চাই যেখানে সকল মানুষের জীবনের দাম থাকবে, রাষ্ট্র হবে শোষণহীন।
সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ডা. সাজেদুল হক রুবেল বলেন, নগরের মানুষ ভয়াবহ সংকটে নিমজ্জিত। একদিকে দ্রব্যমূল্য ও অন্যদিকে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, বাড়িভাড়াসহ নানান নাগরিক ব্যয় আকাশচুম্বি। ছোট এই ঢাকা শহর পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত নগরের প্রথম কিংবা দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে। আমাদের এই নগরে প্রায় ৫০লক্ষ নি¤œ আয়ের শ্রমজীবী মানুষ বসবাস করে কিন্তু তাদের জন্য সরকারের কোন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি বিগত দিনে। তিনি এই শ্রমজীবী মানুষকে এই জালিম অনির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে লড়াইয়ের আহবান জানান।
ঢাকা উত্তরের সাধারণ সম্পাদক কমরেড লুনা নূর বলেন, এই শহরকে বাসযোগ্য করতে প্রয়োজন সকলের জন্য বিশেষ করে শ্রমজীবী প্রান্তিক মানুষবান্ধব পরিকল্পনা গ্রহণ করা। সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকে বাদ দিয়ে এই নগর একদিনও যেমন চলবে না, তাই তাদের কথাও প্রতিদিন আমাদের ভাবতে হবে। উন্নয়ন পরিকল্পনায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জনজীবনের সংকট দূর, প্রহসনের ‘ডামি’ নির্বাচন বাতিল, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জাতীয় সম্পদ রক্ষার দাবিতে নগরের সকল মানুষ বিশেষ করে শ্রমজীবী নি¤œআয়ের মানুষদের নিয়ে তীব্র লড়াই সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। বক্তারা সকল শ্রেণিপেশার মানুষকে কমিউনিস্ট পার্টির পতাকাতলে সমবেত হয়ে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নগর কমিটির নেতা রিয়াজ উদ্দিন, আশিকুল ইসলাম জুয়েল, শান্তনু কুমার দাশ, উত্তরা থানার নেতা সাইদুল ইসলাম, হকার্স নেতা রফিকুল ইসলাম, যুবনেতা ইরান মোল্লা, ছাত্রনেতা লাবলী হক প্রমুখ।
ঢাকা মহারগর উত্তর আয়োজিত সমাবেশে বিভিন্ন থানা ও শাখার পক্ষ থেকে সিপিবি নেতা কর্মীরা ব্যানার ও লাল পতাকা সমেত মিছিল করে এসে যোগ দেন। সমাবেশ শেষে একটি লাল পতাকার বিশাল মিছিল কাফরুল হতে মিরপুর ১০ নম্বর হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।