স্বাধীনতার সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে-সিপিবি

72

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র ৬৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, স্বাধীনতার ৪৫ বছর অতিক্রান্ত হলেও এখনও সকল মানুষের কাছে স্বাধীনতার সুফল পৌঁছেনি। এদেশের মানুষ জীবন বাজি রেখে যে শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য এদেশ স্বাধীন করেছিল স্বাধীনতার এতদিন পরেও সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি। নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বাধীনতার সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
আজ রবিবার বিকালে মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে সিপিবি ঢাকা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা কমরেড আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য শামছুজ্জামান সেলিম, আহসান হাবিব লাবলু, ঢাকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. সাজেদুল হক রুবেল, আশরাফ হোসেন আশু, জাহিদ হোসেন খান, আসলাম খান, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আদনান রিয়াদ। সিপিবি’র সংক্ষিপ্ত ইতিহাস পাঠ করেন সিপিবি নেত্রী শিমুল খান। সভা পরিচালনা করেন ঢাকা কমিটির সদস্য মানবেন্দ্র দেব।
সভায় নেতৃবৃন্দ, রামপাল বিদ্যুকেন্দ্র সহ গণবিরোধী সকল প্রকল্প বাতিলের আহ্বান জানিয়ে বলেন সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামী ১০-১৩ মার্চ ঢাকা-রামপাল লংমার্চ কর্মসূচি পালিত হবে। নেতৃবৃন্দ সকলকে এই কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান।
কমিউনিস্ট পার্টি শুরু থেকে সর্বদা শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে শ্রমিক-কৃষক-মেহনতী মানুষের মুক্তির সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত সকল স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে পার্টির অসংখ্য নেতা-কর্মী শহীদ হয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন,পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, বছরের পর বছর জেল খেটেছেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এ সকল বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, বীর শহীদদের রক্তের ঋণ প্রতিষ্ঠা হবে শোষণমুক্ত সমাজ সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই।
আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পরই পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক কমিউনিস্ট কর্মীদের ওপর হত্যা, নির্যাতন, জেল-জুলুম-হুলিয়ার খড়গ নেমে আসে। হাজার হাজার কমিউনিস্টকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল রাজশাহী জেলের খাপড়া ওয়ার্ডে কমিউনিস্ট রাজবন্দীদের ওপর পুলিশ গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় ৭ জন কমরেডকে, অসংখ্য কমরেড আহত হয়। সর্বশেষ ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবি’র মহাসমাবেশে বোমা হামলা হয়েছে। এ হামলায় ৫জন কমরেড শহীদ হয়েছেন। এই সভায় নেতৃবৃন্দ সকল হত্যাকান্ডের দ্রুত সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াই, জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন, যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামাত-শিবির নিষিদ্ধের আন্দোলনসহ সকল আন্দোলন-সংগ্রামেই সিপিবি অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে।
সভায় নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকেন্দ্রিক দ্বি-দলীয় মেরুকরণের বাইরে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প বলয় গড়ে তোলার কঠিন ও জটিল পথ পরিক্রমায় নানামুখী তৎপরতায় সিপিবি তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। দেশ ও জাতির কাক্সিক্ষত মুক্তির জন্য সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পরিবর্তন সাধনে সিপিবি কাজ করে যাচ্ছে। জনগণকে সিপিবি’র আন্দোলন-সংগ্রামে যোগদান করার জন্য আহ্বান জানান।