স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরেও সংখ্যালঘুর উপর হামলা বাঙালি জাতির জন্য কলঙ্কের–জনলোক

ডেস্ক রিপোর্ট: “স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা বাঙালি জাতির জন্য কলঙ্কের”-বলে মন্তব্য করেছেন সামাজিক সংগঠন জনলোক। সম্প্রতি হিন্দু ধর্মালম্বীদের দূর্গোৎসবে কুমিল্লায় পবিত্র কুরআন অবমাননাকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে দেশব্যাপী হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি ও উপাসনালয়ে আগুন, ভাংচুর ও হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এ মন্তব্য করে সকলকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ এক বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতারা আরো বলেন, স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীতে দাঁড়িয়ে এই দেশ ও জাতির জন্য ধর্মীয় উন্মাদনা, উস্কানি ও এদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরর উপর আক্রমণ চরম লজ্জা ও কলঙ্কের। অতীতে ঘটে যাওয়া এ ধরনের হামলা ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিচার না হওয়ায় দুষ্কৃতিকারীরা বারবার এমন ঘটনায় লিপ্ত হয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।
ধর্মের দোহাই দিয়ে হামলা ও সন্ত্রাসের প্রতিটি ঘটনাই জাতির অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে উল্লেখ করে জনলোক নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের সচেতন প্রতিটি নাগরিকেরই স্ব স্ব অবস্থান থেকে রুখে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।
চলমান সহিংসতা বন্ধে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ভূমিকা কামনা করে তারা বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ও ধর্মের নামে ভিন্নমত ও সম্প্রদায়ের উপর আঘাতের বিরুদ্ধে নীতিগত অবস্থান নিতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ আক্রান্ত হলে তা প্রকারান্তরে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকেই অনিরাপদ জাতিরাষ্ট্রে পরিণত করবে। বাংলাদেশের সংবিধান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে অবিলম্বে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে বিচার ও শাস্তি দেবার মাধ্যমে সব সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষে দল-মত-ধর্ম-বর্ণের উর্ধ্বে উঠে সকলকে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।