স্বপ্নের পথে কাঁটা মৌলবাদী শক্তির উত্থান: কামাল লোহানী

73

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্নের পথে মৌলবাদী, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উত্থান কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী।

গত চার দশকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিগুলো ‘টুকরো টুকরো’ হয়ে গেছে আর স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিগুলো একত্রিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের মন্টিফিউরি সেন্টারে আয়োজিত এক মতবিনিম সভায় এসব বলেন কামাল লোহানী।

তিনি বলেন, “আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম গণতন্ত্র,সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার স্বপক্ষে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের যে আদর্শ আমরা লালন করেছি তার পূর্ণতা এখনও দেখতে পাইনি। যে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র আমাদের স্বপ্ন ছিল সেই স্বপ্নের পথে কাঁটা হয়ে উঠেছে মৌলবাদী স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উত্থান।”

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিই মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক বাংলা সংবাদপত্র ‘সাপ্তাহিক জনমত’ এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

জনমতের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশার সভাপতিত্বে ও নির্বাহী সম্পাদক সাঈম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রেস মিনিস্টার নাদীম কাদির, উদীচীর কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য রফিকুল হাসান খান, কবি শামীম আজাদ ও লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক চৌধুরী।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনমত’র রাজনীতি বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক কাজল। লন্ডনে বাংলা গণমাধ্যমের কার্যক্রম তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মাহবুব রহমান।

সভায় লোহানী বলেন, “সবকিছুর মূলেই হলো রাজনীতি। রাজনীতি যদি সঠিক পথে না চলে তবে রাষ্ট্র প্রত্যাশিত পথে চলে না।”

রাজনীতিবিদের অন্যায় করার সুযোগ রুখে দিতে সাংবাদিকসহ সমাজের সব পর্যায় থেকে সাধারণ মানুষকে পাহারাদারের ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম সংগঠক কামাল লোহানী বেতার কেন্দ্রে তার যোগদানের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে কলকাতায় অবস্থানকালে সাংবাদিক আমিনুল হক বাদশার সঙ্গে দেখা হয় বাংলাদেশ মিশনের সামনে। তিনিই আমাকে ট্যাক্সিতে উঠিয়ে নিয়ে যান বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে। সেখানে তখন আয়োজন চলছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের উদ্বোধনের। সেদিন থেকেই আমি এই বেতারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ি।”
মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, “বাঙালি জাতির মাঝে সঞ্জীবনী সুধা সঞ্চার করে সাড়ে ৭ কোটি মানুষকে উজ্জীবিত করে রাখে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। এই বেতারে অনুষ্ঠান সম্প্রচারের মাধ্যমে আমরা পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে জয়ী হওয়াতেই তারা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।”

মতবিনিময় সভায় লন্ডনে বাংলা গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের মধ্যে সাপ্তাহিক জনমতের বার্তা সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, বাংলা টাইমসের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসন,বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিনিধি সৈয়দ আনাস পাশা, টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়রের রাজনীতি বিষয়ক পরামর্শক সৈয়দ মনসুর উদ্দিন, সুরমার সম্পাদক আহমেদ ময়েজ, সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইছির মাহমুদ, সাংবাদিক হামিদ মোহাম্মদ, শাহাবুদ্দিন বেলাল, এনআরবি প্রতিনিধি মতিয়ার চৌধুরী, ডেইলি স্টার প্রতিনিধি আনসার আহমেদ উল্লাহ, চ্যানেল এসের বার্তা সম্পাদক কামাল মেহেদী, ইকরা টিভির বার্তা প্রধান হাসান হাফিজ, বাংলা টাইমসের বার্তা সম্পাদক মো. এমরান আহমদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ নাসির, জনমত প্রতিনিধি আহাদ চৌধুরী বাবু, চ্যানেল এসের সিনিয়র রিপোর্টার ইব্রাহিম খলিল, জাকির হোসেন কয়েস, রেজাউল করিম মৃধা, এনটিভির এম এ কাইয়ূম, বাংলা পোস্টের শিহাবুজ্জামান কামাল, গ্লোবাল নিউজ সম্পাদক নাজমুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদের মধ্যে গবেষক ফারুক আহমদ, কমিউনিস্ট পার্টির সৈয়দ এনাম, সৈয়দ রকিব আহমদ,জনমতের পরিচালক জুনায়েদ চৌধুরী ও জসিম উদ্দিন, যুক্তরাজ্য উদীচী সভাপতি হারুন-অর-রশীদ, সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জোবের আক্তার সোহেল, কলামনিস্ট এনায়েত সারোয়ার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আশরাফ মাহমুদ নেসওয়ার ও মোস্তফা কামাল, ছড়াকার দিলু নাসের, খুরশেদ আলম শাহীন, হেলেন ইসলামসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। বিডি নিউজ২৪.কম