স্বতন্ত্র মহিমায় উজ্জ্বল এক তারুণ্য কেয়া

77

যুগবার্তা ডেস্কঃআলাপচারিতায় সর্বদা যার চোখের কোণে নৃত্য ছন্দে নেচে উঠে এক মায়াবী ভঙ্গি সেই তন্বী মেয়েটির নাম কেয়া। পুরো নাম সঙ্গীতা বড়ুয়া কেয়া। কেয়া নামের অর্থ খাবারে পরিবেশন যোগ্য এক সুরভিত উদ্ভিদ। নামের মাদকতা কেয়া ছড়িয়েছে তার প্রতিভায়। ছোটবেলা থেকে পারিবারিক আবহে শিল্প চর্চায় বেড়ে উঠেছে কেয়া বাবা মার নিদারুণ সমর্থনে। শিশুকাল কেটেছে তার পার্বত্য পরিবেশে একান্ত সাধারণ গ্রামীণ জীবন ধারায়। কেননা সরকারী চাকুরী সুত্রে বাবা দীপক কুমার বড়ুয়ার তখন পোস্টিং ছিল রাঙ্গামাটিতে। বলা রহফবীযায় রাঙ্গামাটির উর্বর পাহাড়ের পাদদেশে এমন একটি প্রতিভা বিকশিত হবে কে না জানত। তাই স্কুল জীবনে এসে ২০০১ সালে কেয়া অর্জন করেছে জাতীয় শিশু পুরস্কার । এরপর চর্চাকে ঋদ্ধ করার নিমিত্তে অনুশীলন সহ পরিশ্রমের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় নৃত্য এই অপূর্ব শৈলী করায়ত্ব করতে। এখানে উল্লেখ্য নৃত্যে তার হাতে খড়ি হয় যতাক্রমে ওস্তাদ সোমা বোস, ওস্তাদ সাজু আহমেদ, ওস্তাদ স্বপন দাশ এর কাছে। আর এখান থেকে নৃত্যে নানা কৌশল, নানা প্রকার মুদ্রা, রসতত্ব ও প্রণালীর আয়ত্বে আনার অকৃপণ চেষ্টা। নৃত্যের পাশাপাশি কেয়া ছবি আঁকার মনোযোগি ছিল বেশ। কেননা ক্যানভাসে আলো ও রঙের নাচনও তাকে মুগ্ধ করত সুষম ব্যঞ্জনায়। আর তারই প্রয়াস, অদম্য উৎসাহে ভর্তি হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চট্টগ্রাম চারুকলা ইনস্টিটিউটে। এখান থেকে এপ্লাইড আর্টে এম. এফ. এ. সম্পন্ন করে কৃতিত্বের সাথে। শিল্প চর্চায় তাই দেখা যায় কেয়া বেশ কিছু জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে চিত্র প্রদর্শনীতে অংশ গ্রহণ করেছে নিজস্ব শৈলীতে। তার ছবির মূল বিষয় থাকত বরাবর নারী ও প্রকৃতি। যেখানে আবার আমাদের ঐতিহ্য সংস্কৃতি প্রতিফলন খুঁজে পাওয়া যায় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতির মিলনে এক নবীন সংস্কৃতি আবহে।
নৃত্য ও চিত্র চর্চার পাশাপাশি চলত। আবার ফ্যাশন সচেতন বেশকিছু কাজ ও লক্ষনীয় কেয়ার বিচরণে। সবসময় পরিপাটি থেকে আধুনিক মননে কেয়া আর্ট এন্ড ক্রাফট ও ফ্যাশন নিয়ে কাজ করেছে নিজ ভাল লাগার অভিপ্রায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত। তাই কখনো কখনো দেখা যায় বিভিন্ন ফ্যাশন প্যারেডে কোরিওগ্রাফি করতে ।
বর্তমানে কেয়া নিয়মিত চর্চায় নিজেকে প্রকাশ করার তাগিদে নৃত্যশিল্পী স্বপন বড়–য়ার পরিচালিত সঞ্চারী নৃত্যকলা একাডেমীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে নিয়োজিত রেখেছে। ইদানিং কেয়া যোগদান করেছেন বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে শিল্প নির্দেশক হিসেবে। এখানে বেশ কিছু আধুনিক সেট নির্মাণ করে প্রশংসা কুড়িয়েছে সবার।
বাবা মার দুই সন্তান এর মধ্যে কেয়া বেশ আদুরে ও বড়। মা মমতা চৌধুরীও সরকারী চাকুরে। ছোট ভাই তন্ময় বড়ুয়া তরুণ প্রকৌশলী, একটা প্রাইভেট ফার্মে কর্মরত আছে। উল্লেখ্য সংগীতা বড়ুয়া কেয়া এই উপমহাদেশের কবিগান খ্যাত একুশে পদক প্রাপ্ত কবিয়াল ফণী বড়ুয়ার নাতনী।
কেয়ার কাছে এতটুকু পর্যন্ত সফলতা বিফলতা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে বলে ‘‘সফলতা বিফলতা বড় কথা নয়। যে কোন শিল্প সত্য শক্তির। এখানে কোন জোর খাটে না। কোন চালাকি, কোন ইচ্ছা পূরণ দিয়ে তাকে ধরা যায় না মূলত শিল্পীর এ্যাটিচ্যুড এর সিরিয়াসনেসটাই প্রধান বিবেচ্য। আমি তাতেই সচেষ্ট ছিলাম।’’