সৌদি আরবে নয়া আইন: মালিক পাসপোর্ট জমা রাখতে পারবে না

104

যুগবার্তা ডেস্কঃ সৌদি আরবে নতুন শ্রম আইন প্রণয়ন করেছে দেশটির সরকার। সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশটির জাতীয় দৈনিক সৌদি গেজেট। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদিতে বসবাসকারী সব অভিবাসী নিজের পাসপোর্ট নিজেই বহন করবেন। কফিল (জামিনদার) যদি কোনো শ্রমিকের পাসপোর্ট না দিয়ে জব্দ করে রাখে তাহলে দুই হাজার রিয়াল জরিমানা। সেই সঙ্গে কাজ করার চুক্তিনামা না দিলে ৫ হাজার রিয়াল জরিমানা গুনতে হবে কফিলকে।
এ জরিমানা ১৫ হাজার হবে যদি চুক্তিনামা অনুযায়ী শ্রমিককে কাজ না দিয়ে অন্য কাজ দেয়। এ ছাড়া শ্রমিকদের বেতন দিতে বিলম্ব করলে, অতিরিক্ত বেতন প্রদান না করে বাড়তি সময় কাজ করালে, সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন এবং বৈরি আবহাওয়ায় কাজে বাধ্য করলে তাদেরও জরিমানার আওতায় আনা হবে।
এ জরিমানা একমাসের মধ্যেই পরিশোধ করতে হবে। কোনো কোম্পানি যদি দ্বিতীয়বারের জন্য এ আইন অমান্য করে তাহলে জরিমানা দ্বিগুণ হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে ১৫ অক্টোবর থেকে সৌদি আরবে অভিবাসীদের জন্য ৫ বছর মেয়াদি নতুন আকামা দেয়া শুরু হয়েছে। এতে ‘আকামা’ শব্দের বদলে লেখা থাকছে ‘রেসিডেন্ট আইডেন্টিটি’ বা বসবাসকারীর পরিচয়।
সৌদি পাসপোর্ট অধিদফতর (জাওয়াযাত) সূত্রের খবর, অভিবাসী ও নিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিবছর অনলাইনে ওই আকামা নবায়ন করতে হবে। নবায়নের জন্য পাসপোর্ট বিভাগের কার্যালয়গুলোতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। নবায়নকৃত কার্ড বিতরণ করা হবে কুরিয়ারে। নবায়ন করা হলে, স্পন্সরশিপ বদল হলে বা প্রথমবারের মতো অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রে পুরনো কার্ডের বদলে নতুন কার্ড দেয়া হবে। পুরনো কার্ডগুলো কার্যকর থাকবে মাত্র এক বছর।
নতুন কার্ডগুলো ‘আবশির’ বা ‘মুকিম’ সেবাগুলোর মাধ্যমে ইলেক্ট্রনিক্যালি নবায়ন করা যাবে। জালিয়াতি ঠেকাতে নতুন কার্ডে থাকবে ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ। আর কার্ডের ওপর মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ থাকবে না। বিদ্যমান বাৎসরিক ফি বলবৎ থাকবে।
এ ইলেকট্রনিক ইকামা নষ্ট করা কিংবা জাল করা সম্ভব হবে না বলেও জানিয়েছেন কতৃপক্ষ ।
নতুন নিয়ম মাফিক এই ইলেকট্রনিক্স ইকামার নবায়ন ফি আগের মতোই অর্থাৎ কোম্পানিতে কর্মরতদের জন্য বার্ষিক ৬৫০রিয়াল, গৃহকর্মীদের জন্য ৫০০ রিয়াল এবং পরিবারের সঙ্গে থাকা ১৮ বছর পর্যন্ত বয়স্কদের জন্য ৫০০ রিয়াল রাখা হয়েছে। তবে নতুন নিয়মের ফলে ইকামা নবায়নের জন্য পাঁচ বছরের ফি একসঙ্গে জমা দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, সৌদি আরবের শ্রমশক্তির ৭৮ শতাংশই পূরণ করেছে অভিবাসীরা। বাকি মাত্র ২২ শতাংশ তাদের নিজস্ব নাগরিক।