সোয়া দুই লাখ ব্যক্তিগত গাড়ীর ভারে ন্যুব্জ রাজধানী

82

যুগবার্তা ডেস্কঃ ব্যস্ত নগরী ঢাকা এখন প্রায় সোয়া দুই লাখ ব্যক্তিগত গাড়ীর ভারে ন্যুব্জ।
৩০৭ বর্গ কিলোমিটারের নগরী রাজধানী ঢাকায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার বুকে নতুন করে কোন পদক্ষেপ নিয়ে এ সমস্যা সমাধান করা খুব কঠিন হবে। এজন্যে উচিৎ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা। ঢাকার আশেপাশে নতুন করে যেসব আবাসন প্রকল্প তৈরী হচ্ছে, এসব ভুল যাতে আর না হয় সেদিকেও নজর রাখতে হবে সরকারের।
বিশেষজ্ঞরা এও বলছেন, বিশ্বের মেগা সিটির তুলনায় রাজধানী ঢাকাতে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা ১০ ভাগেরও কম। তারপরেও এই নগরীর প্রধান সমস্যা যানজট। এর কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, অন্যন্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যানযট নিরসনে যেভাবে বাড়তি নজর রাখেন, ঠিক সেভাবে সংযোগ সড়কগুলোতেও নজরদারী করতে হবে।
যানজট সমস্যা এই নগরীর প্রতিদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যার সমাধানে সবসময় মূল সড়কগুলোকে প্রাধান্য দেয়া হলেও সংযোগ সড়ক বা গলিগুলো থেকে যাচ্ছে একেবারেই অভিভাবকহীন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যানজট সমস্যার কার্যকর সমাধানে মূল সড়কের সঙ্গে নজর দিতে হবে সংযোগ সড়কগুলোর দিকেও। জাতীয় প্রেস ক্লাবের রাস্তায় দেখা যায় রাজনৈতিক কর্মসূচী চলায় একপাশে পুরোপুরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে ব্যবহার করতে হচ্ছে সচিবালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়া সংযোগ সড়কটি। এ রাস্তার দু’পাশে গড়ি পাকিং করে রাখায় এখানকার অবস্থা মূল সড়কের চেয়েও করুণ।
রাস্তায় চলাচলকারী সাধারণ জনগন এ পরিস্থিতিতে ইতমধ্যেই অভ্যস্ত হলেও তাদের ভোগান্তির শেষ হয়না। অনেকে বলছেন, স্কুল কলেজে যাওয়ার সময়, কোন বিশেষ প্রয়োজনে বের হলে যতটা সময় লাগার কথা তারও বেশি সময় অযথাই খরচ হয়ে যাচ্ছে। তারা এটাও বলছে যে, রাস্তা-ঘাটের যেখানে-সেখানে, হাসপাতালের বা শপিংমলের সমনে গাড়ি পাকিংয়ের ফলে বিশেষত যানযট বেড়েই চলেছে।
শুধু সংযোগ সড়কগুলোই নয়, অনেকেই ভবনের বাইরে পার্কিংয়ের যায়গা না থাকায় গাড়ি রাখার জন্য দখল করে নেয় ফুটপাত। তাদের দাবি ফুটপাথ না-কি তাদেরই যায়গা।
সিটি কর্পোরেশন বলছে, এসব সংযোগ সড়কের যানযট দুর করতে খুব শিঘ্রই চালানো হবে প্রচারণা। এর পরেও কাজ না হলে নেয়া হবে আইনী ব্যবস্থা।
এ সম্বন্ধে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিল্লাল বলেন ‘এই সমস্ত রাস্তায় যেন পার্কিং না হয় সে জন্য আমরা মেট্রোপলিটন পুলিশ সহায়তায় যৌথ উদ্যোগের কথা বলেছি এবং সাথে সাথে যদি সেই প্রচারণায় কাজ না আসে তবে আইনী প্রক্রিয়া প্রয়োগের সুযোগ থাকবে।’নাসিমুজ্জামান সুমন, আমাদের সময়.কম