সেতুর মুখ বন্ধ করে পুকুর খনন

86

রাজশাহী অফিসঃ রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় একটি সেতুর মুখ বন্ধ করে পুকুর খনন করা হচ্ছে। পুকুরের পাড় বাঁধাইয়ের সময় এরই মধ্যে সেতুর মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে এবার বর্ষা এলেই দুর্গাপুরের কারবালার ডাঙি ও সুরাকুলিয়ার বিলের কমপক্ষে হাজার বিঘা জমি পানির নিচে তলিয়ে যাবে। এতে পথে বসবেন ওই এলাকার কৃষকরা।

এ অবস্থায় পুকুর খনন বন্ধে এলাকার প্রায় শতাধিক কৃষক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে কৃষকরা তাদের জমি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এখন পর্যন্ত পুকুর খনন অব্যাহত আছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের মাড়িয়া ও হরিরামপুর গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে ৯ বিঘা জমির ওপর খনন করা হচ্ছে পুকুরটি। পুকুরের পাড় বাঁধাইয়ের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। পাড় বাঁধাইয়ের সময় পুকুরপাড়ের সড়কের সেতুর মুখ মাটি দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন শ্রমিকরা পুকুরের তলদেশ গভীর করার কাজ করছেন। পুকুরের একপাশে পাড় এবং অন্যপাশে সেতুর মুখ বন্ধ করে দেয়ায় এখন কোনো পানিই সে দিক দিয়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

স্থানীয়রা জানালেন, মাড়িয়া গ্রামের মোজাম্মেল হোসেন নামে এক ব্যক্তি পুকুরটি খনন করছেন। পুকুর খননে দখল করা হয়েছে খাস জমিও। এরপরেও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে। মোজাম্মেলের পুকুর খননের মাধ্যমে তাদের তলিয়ে দেওয়ার এমন আয়োজনে তারা হতাশও বটে।

হরিরামপুর ও মাড়িয়া গ্রামের কৃষক আবদুল হক, ইসরাফিল হোসেন, আবু সাঈদ, আলী হোসেন, নজরুল ইসলাম ও বয়ান আলীসহ আরো অনেক কৃষক জানিয়েছেন, বর্ষাকালে পুকুরের পশ্চিম ও উত্তর কোণের কারবালার ডাঙি ও সুরাকুলিয়ার বিলের পানিগুলো মাড়িয়া গ্রামের এ সেতুটি দিয়ে সড়কের ওপাশে যায়।

এরপর ওপাশের মরাবিল ও আংরার বিল হয়ে পানি চলে যায় বারনই নদীতে। এখন সেতুর মুখ বন্ধ করে দেওয়ায় এক ফোটা পানিও ওপাশে যেতে পারবে না। ফলে এবার বর্ষা শুরু হলেই সারাবছরের জন্য জলাশয়ে পরিণত হবে কারবালার ডাঙি ও সুরাকুলিয়ার বিল। এতে কয়েক’শ কৃষকের প্রায় হাজার বিঘা জমি পানির নিচে তলিয়ে যাবে।

স্থানীয়রা জানান, ওই দুই বিলের জমিতে রসুন, পেঁয়াজ, সরিষা, ধান, ভুট্টাসহ সারাবছর সবজির চাষাবাদ হয়। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে এখন থেকে এসব ফসল চাষ হবে না। জলাবদ্ধতার কারণে আশপাশের বেশকিছু পানের বরজেও পানি উঠে যাবে। এতে এলাকার কয়েকশো কৃষক সর্বশান্ত হয়ে যাবেন। তাই তারা পুকুর খনন বন্ধ করে সেতুর মুখ খুলে দেওয়ার দাবি জানান।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এভাবে পুকুর খনন মোটেও উচিৎ হচ্ছে না। সেতুর মুখ বন্ধ হয়ে পড়ায় এবার বর্ষা মৌসুমেই বহু কৃষকের জমি পানির নিচে তলিয়ে যাবে। এলাকার কৃষকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই আমি আশা করবো- প্রশাসন পুকুর খনন বন্ধ করে সেতুর মুখ খুলে দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করবে।’
জানতে চাইলে ইউএনও আনোয়ার সাদাত বলেন, অভিযোগটি পেয়েই তিনি থানার ওসির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন। তবে ওসি রুহুল আলম বলেন, এ বিষয়টি দেখার দায়িত্ব তার নয়। এটি ভূমি অফিসের বিষয়। তাই তিনি ভূমি অফিসে অভিযোগটি পাঠিয়ে দেবেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজিবুল ইসলাম খান বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তার কাছে যায়নি। এখন পুকুর খননে উচ্চ আদালতেরই নিষেধাজ্ঞা আছে। তাই অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত পুকুর খননকারী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘আমি আমার নিজের জমিতে পুকুর খনন করছি। এতে কারও কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। আর সেতুর মুখ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। মুখে মাটি দেওয়া হলেও দুটি পাইপ বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখান দিয়েই পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে।’