সুন্দরবন ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রামপালের পরিবর্তে বিকল্প জায়গায় স্থাপনের বিষয়টি পুণ:বিবেচনা করুন

যুগবার্তা ডেস্কঃ “বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সভা ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করছে যে, দেশের মানুষের দাবীকে উপেক্ষা করে সরকার রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে চ‚ড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে চলেছে। ইতোমধ্যে ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সাথে ঋণ চুক্তিপত্র হস্থান্তর হয়েছে যার শর্তাবলী বাংলাদেশের অনুক‚লে নয় বলে প্রতিয়মান হয়। ওয়ার্কার্স পার্টি পূর্বাপর বলে এসেছে যে, সুন্দরবন ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রামপালের পরিবর্তে বিকল্প জায়গায় স্থাপন করা প্রয়োজন। ওয়ার্কার্স পার্টি এখনো মনে করে যে, সুন্দরবন রক্ষার স্বার্থে সরকার এই বিষয়টি পূণ:বিবেচনা করবে।”
বৃহস্পতিবার ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর দু’দিনব্যাপী সভার শেষ দিনের আলোচনায় এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পলিটব্যুরো সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সহ সাংগঠনিক বিষয়ে পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা বিস্তারিত রিপোর্ট তুলে ধরেন। সভার প্রস্তাবে বলা হয়, গত কয়েকদিন যাবৎ ঢাকা মহানগরে গণ পরিবহনে শৃঙ্খলা আনায়োনের নামে সিটিং সার্ভিস বাতিলের যে নাটক হলো তা মূলত বাস মালিকদের স্বার্থেই করা। আর এই নৈরাজ্যের শিকার হলো যাত্রী সাধারণ। প্রস্তাবে বলা হয় বাস ভাড়া নিয়ন্ত্রণে সরকারের অসহায়ত্ব সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়াবে। প্রস্তাবে বাসযাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য সরকারী উদ্যোগে বিআরটিসির বাস বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
সভার প্রস্তাবে হঠাৎকরে চালের মূল্য সহ দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এই মূল্য বৃদ্ধি সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতা ও অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি। এই মূল্য বৃদ্ধির ফলে জনজীবনে যে সংকট বাড়বে, এব্যাপারে সরকারকে দাম কমাবার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান হয়।
সভার অপর প্রস্তাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের ব্যর্থতা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে হাওড় অঞ্চলের ফসলহানী ও মৎস সম্পদের ক্তিস ঐ অঞ্চলের জনগণ নিদারুণ ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই অবস্থায় হাওড় অঞ্চলকে দূর্গত এলাকা ঘোষণা করা উচিৎ। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় কৃষকের সুদ সহ ব্যাংক ঋণ মওকুফ এবং এনজিও ঋণ আদায় বন্ধ এবং সুদ মওকুফের আহ্বান জানান হয়। সভায় আলোচনায় অংশ নেন, কমরেড বিমল বিশ্বাস, কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিক, কমরেড নুরুল হাসান, কমরেড শুশান্ত দাস, কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক, কমরেড নূর আহমদ বকুল, কমরেড হাজেরা সুলতানা, কমরেড কামরূল আহসান, কমরেড আমিনুল ইসলাম গোলাপ, কমরেড এ্যাড. মুস্তফা লূৎফুল্লাহ প্রমুখ।