সুচির সংবিধান সংশোধনের ঘোষণা

63

যুগবার্তা ডেস্কঃ মিয়ানমারের সংবিধান সংশোধনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি নেত্রী অং সান সুচি। সোমবার বুদ্ধিস্ট নতুন বর্ষ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে সু চি এ ঘোষণা দেন। এসময় নববর্ষে সবার শুভ কামনা করেন তিনি।
এনএলডি নেত্রী বলেন, ‘দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এ দেশটিতে সত্যিকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এ সংশোধন অপরিহার্য। সামনের দিনগুলো নতুন সরকারের জন্য বেশ কঠিন।’
সুচি বলেন, ‘আমাদের নীতি ও আদর্শ হচ্ছে জাতীয় সমঝোতা, অভ্যন্তরীণ শান্তি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্য অর্জনে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন।’
মিয়ানমার সরকারের এ নীতি নির্ধারক বলেন, ‘আমাদের এমন এক সংবিধান চাই যা সত্যিকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভুমিকা রাখবে।’
সংবিধান সংশোধনে ক্ষমতাসীন দলের উদ্যোগে বড় বাধা সামরিক বাহিনি। সরকার পরিচালনা ও সংসদে সামরিক বাহিনির ক্ষমতা নিরঙ্কুশ না হলেও বেশ লক্ষণীয়। সুচি নির্বাচনের আগে থেকে বলে আসছিলেন যে, এ সংবিধান সামরিক শাসকদের নির্দেশনা ও ইচ্ছায় লেখা হয়েছে যা দেশের সুষ্ঠু অগ্রগতির স্বার্থে সংশোধন করতে হবে।
সংবিধান অনুয়ায়ী সরকারের বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় সামরিক বাহিনীর জন্য নির্ধারিত করে রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা এবং সীমান্ত বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে সেনাবাহিনীতে কর্মরত কর্মকর্তারা।
সংসদের ২৫ শতাংশ আসনও সেনা বাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। সংসদের আসন সংরক্ষণের উদ্দেশ্য হচ্ছে কোনো সরকার যেন সেনাবাহিনীর অনুমতি কিংবা সহযোগিতা ছাড়া সংবিধান সংশোধনের সুযোগ না পায়। সরকার গঠনের পর থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে গাটছড়ার চেষ্টা করলেও মাঝেমধ্যে সুচির বক্তব্যে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে দু’পক্ষের মধ্যে।
প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে টানা ৫৩ বছর সামরিক শাসনের পর গেল বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ আসনে জিতে ক্ষমতায় আসে সুচির নেতৃত্বাধীন এনএলডি। এনএলডি প্রধান সুচি হচ্ছেন মিয়ানমারের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা। সংবিধান অনুয়ায়ী বিদেশি স্বামী, স্ত্রী কিংবা সন্তান থাকলে মিয়ানমারের কোনো নাগরিক দেশটির প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। সুচির প্রয়াত স্বামী ছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক এবং তার দুই সন্তানও ব্রিটিশ নাগরিক।