সিলেকশন গ্রেড বহালের দাবিতে শিক্ষকদের সাথে কর্মকর্তা-কর্মচারিরাও আন্দোলনে

81

যুগবার্তা ডেস্কঃ সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারি সিলেকশন গ্রেড বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলনে নামছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) কর্মবিরতিসহ কর্মসূচী পালন করেছেন । শিক্ষকদের বক্তব্য হলো, সিলেকশন গ্রেড শুধু আর্থিক সুবিধার বিষয় নয়, মর্যদার প্রশ্ন রয়েছে।
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির ডাকে এই কর্মসূচি পালন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলেজগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন প্রায় দ্বিগুণ হলেও টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাদ দেওয়ায় কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সচিবালয়সহ বিভিন্ন স্তরের, বিশেষ করে নিচের স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে করছেন, এর ফলে তাঁরা আর্থিকভাবে ও মর্যাদার দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
প্রশাসন ও পররাষ্ট্র ক্যাডার বাদে বাকি ২৬টি ক্যাডারসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) সমন্বয় কমিটিও মনে করছে, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলে বেতনবৈষম্য বাড়বে। এ জন্য সংগঠনটির নেতারা বুধবার গণপূর্ত অধিদপ্তরে সভা করে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বহালসহ কয়েকটি দাবিতে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছেন।
ওই সভায় টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলের জন্য প্রশাসন ক্যাডারের কিছু কর্মকর্তাকে দোষারোপ করা হয় বলে জানা যায়। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা (অধিকাংশই কলেজশিক্ষক) সিলেকশন গ্রেড বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দেশের সব সরকারি কলেজ ও সংশ্লিস্ট শিক্ষা দপ্তরে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করেন। সরকারি কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষা দপ্তরে শিক্ষা ক্যাডারে এখন মোট কর্মকর্তা প্রায় ১৪ হাজার।
ঠিক সময়ে পদোন্নতি না হওয়ায় এবং পদোন্নতির সুযোগ না থাকায় এত দিন নির্ধারিত সময় পর কর্মচারীদের টাইম স্কেল ও কর্মকর্তাদের সিলেকশন গ্রেড দেওয়া হয়েছে। এর ফলে একজন চাকুরে পদোন্নতি না পেলেও আর্থিক সুবিধা পেতেন এবং অনেকের গ্রেড পরিবর্তন হয়ে মর্যাদা বাড়ত। কিন্তু গত সোমবার এই টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর স্কেল বাদ দিয়ে মন্ত্রিসভা অষ্টম বেতন স্কেল অনুমোদন করে। এটি বাতিল ঘোষণার পর থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তবে বাংলা নববর্ষ ভাতাসহ আরও কিছু উদ্যোগকে সবাই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
কয়েকজন কর্মচারী বলেন, কর্মকর্তাদের চেয়ে নিচের স্তরের পদের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হারও অনেক কম হয়েছে।
এদিকে বেতন কাঠামো পুনির্ধারনের দাবিতে আন্দোলনরত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির জোট বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে বৈঠক করছে।