সিরিজ ড্র করাই লক্ষ্য বাংলাদেশের

ডেস্ক রিপোর্ট: টি-টোয়েন্টি সিরিজ সমতায় শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে আগামীকাল স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ খেলতে নামছে বাংলাদেশ।
গায়ানার প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩০মিনিটে শুরু হবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার শেষ টি-টোয়েন্টিটি।
প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাবার পর দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দারুন জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩৫ রানের জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ক্যারিবীয়রা।
কাল তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি হারলে, এই সফরে দ্বিতীয়বারের মত সিরিজ হারের স্বাদ পাবে বাংলাদেশ। সফরের শুরুতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিলো টাইগাররা।
টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের চিন্তার বিষয় ছিলো ব্যাটিং। টি-টোয়েন্টি সিরিজেও একই রোগে ভুগছে দল। বৃষ্টি বিঘিœত সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১৩ ওভারে ৮ উইকেটে ১০৫ রান করেছিলো বাংলাদেশ। অবশ্য শেস পর্যন্ত ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচে ১৯৪ রানের টার্গেটে ৬ উইকেটে ১৫৮ রান করে টাইগাররা।
গত ম্যাচে জবাব দিতে নেমে শুরুতেই ২৩ রানে ৩ উ্ইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিলো বাংলাদেশ। চতুর্থ উইকেটে জুটি বেঁধে বাংলাদেশকে খেলায় ফেরান দুই ব্যাটার সাকিব আল হাসান ও আফিফ হোসেন। আফিফ আউট হবার পর একাই লড়াই করেছিলেন সাকিব। তবে তার লড়াইয়ে ম্যাচ জয়ের কোন আভাস ছিলো না। সাকিবের ব্যাটিং বলে দিয়েছিলো, হারের ব্যবধান কমানোই প্রধান লক্ষ্য ছিলো তার।
শেষ পর্যন্ত ৫২ বলে ৬৮ রানে অপরাজিত থাকেন সাকিব। যা দলের কোন উপকারে আসেনি কেবলমাত্র হারের ব্যবধানটাই কমিয়েছে। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে ওয়ান ম্যান শো দেখাতে ব্যর্থ বাংলাদেশ। এটিই দেশের ক্রিকেটে বড় কারন হিসেবে ফুটে উঠেছে।
একটি ইউনিট হিসেবে খেলার জন্য সবসময়ই জোর দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। যা তাদের প্রধান শক্তি। টাইগারদের মতে, দল হিসেবে খেলতে পারলে ম্যাচ জয়ের জন্য আত্মবিশ^াস পায় তারা।
দল হিসেবে খেলার জন্য এবারও ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশ। এমনটা আবারও স্পষ্ট করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তিনি জানান, টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে হলে, দল হিসেবে খেলতে হবে।
মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা সব সময়ই ম্যাচ জয়ের জন্য মনোনিবেশ করি। তবে টি-টোয়েন্টিতে জিততে হলে আমাদের মতো একটি দলকে, ইউনিট হিসেবেই খেলা উচিত। সবার নিজ-নিজ জায়গা থেকে অবদান রাখতে হবে। যা বুঝলাম, দল হিসেবে খেলাই আমাদের বড় শক্তি। আমরা যদি তা না করতে পারি, তাহলে আমাদের পক্ষে ম্যাচ জয় সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যদি আমাদের পেছনের দিকে তাকালে দেখবেন, আমাদের শুরুটা ভাল হলে আমরা ভাল করি এবং ভালো শুরু কেেত হলে, সকলেরই ন্যূনতম অবদান থাকা উচিত। আমি বলছি না, আমরা জয়ের পথে ফিরতে পারবো না, তবে ভালো শুরু করলে, আমাদের আত্মবিশ^াস বাড়বে।’
শেষবার ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলেও, তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল। অবশ্য টি-টোয়েন্টি সিরিজটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।
এছাড়া, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে রেকর্ড খারাপ হলেও, দু’বারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়-হারের অনুপাত উপভোগ করার মতো। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৫টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। জয় আছে পাঁচটিতে, হার আটটিতে এবং ম্যাচ পরিত্যক্ত দু’টিতে।
তবে সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত এই ফরম্যাটে ১২৭টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। যেখানে বাংলাদেশের জয় ৪৪টিতে, হার ৮০টিতে এবং ৩টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়।
দু’টি পরিবর্তন নিয়ে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে খেলতে নেমেছিলো বাংলাদেশ। মুনিম শাহরিয়ার ও নাসুম আহমেদের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ ও মোসাদ্দেক হোসেন। সিরিজ ড্র করতে তৃতীয় ম্যাচে জিততে হবে, এ অবস্থায় আবারও দলে আসতে পারেন তারা।
বাংলাদেশ দল : মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), মুনিম শাহরিয়ার, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, আনামুল হক, আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান (উইকেটরক্ষক), মেহেদি হাসান মিরাজ, মাহেদি হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ ও তাসকিন আহমেদ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল : নিকোলাস পুরান (অধিনায়ক), রোভম্যান পাওয়েল, শামারাহ ব্রুকস, আকিল হোসেন, আলজারি জোসেফ, ব্রান্ডন কিং, কাইল মায়ার্র্স, ওবেদ ম্যাককয়, কিমো পল, রোমারিও শেফার্ড, ওডেন স্মিথ ও। ডেভন থমাস (উইকেটরক্ষক), হেইডেন ওয়ালশ, ডোমিনিক ড্রাকস (রিজার্ভ)।
-বাসস