সিপিবি পল্টন থানা সম্মেলন

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগরের পল্টন থানা সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, শাসক দলগুলো ক্ষমতায় থাকলে জনগণের স্বার্থ দেখে না। ক্ষমতার বাইরে থাকলে জনগণের দাবির স্বপক্ষে কথা বলতে দেখা যায়। তাই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ধারার দলগুলোকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে পারলে জনগণ স্বস্তি পাবে। এজন্য দ্বি-দলীয় মেরুকরণের বাইরে আদর্শনিষ্ঠ রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের বিকল্প শক্তি সমাবেশ গড়ে তুলতে হবে।
আজ মুক্রবার সকালে পুরানা পল্টন মোড়ে পার্টির পল্টন থানার সভাপতি এ্যাড. এম.এ. তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পল্টন থানার সম্মেলনের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমদ, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাহিদ হাসান খান, সেকেন্দার হায়াৎ, মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, ত্রিদিব সাহা, মঞ্জুর মইন, পুষ্পেন রায়, হযরত আলী, আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০০৬ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ফুলবাড়ী হত্যাকা- সংগঠিত হয়। ঐ সময় বিরোধী দল আওয়ামী লীগ জনগণের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দেয়। অথচ ক্ষতায় এসে ঐ জনগণের দাবির বাস্তবায়ন করেনি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে সুন্দরবন ধ্বংসের প্রকল্প বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি এতদিন পর মুখ খুলে জনগণের দাবির পক্ষে কথা বলছে। অথচ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে সুন্দরবন রক্ষা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভূমিকা নেয়নি। তাই দেশ ও জনগণের স্বার্থে এদের ক্ষমতার বাইরে রেখে জনস্বার্থের পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় বসাতে হবে।
বক্তারা বলেন, ঢাকা এখনও অচল শহর। জনজীবনে গতি নেই। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বাৎসরিক বাজেট ২০০০ কোটি থেকে ৩০০০ কোটি হলেও জনমনে স্বস্তি নেই। যানজট, জলজট, ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার, রাস্তাঘাট মেরামত, পর্যাপ্ত বাতি আর মাঠ-পার্ক উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা নেই। দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা কমেনি। নেতৃবৃন্দ অচল ঢাকা সচল করে সকলের বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার আন্দোলন বেগবান করার আহ্বান জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ঢাকা শহর শুধু ধনিদের নয়, শ্রমজীবিদেরও শহর। এদের উন্নয়ন ছাড়া ঢাকার উন্নয়ন অর্থহীন। নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকায় গৃহস্থলীতে কম গ্যাস ব্যবহার করে বেশি দাম দিতে হচ্ছে। তারপরও অহেতুক দাম বাড়ানোর অপচেষ্টা নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস-পানি পাওয়া যায় না। অথচ বছরের পর বছর দাম বাড়তেই থাকে। এ অবস্থা মেনে নেয়া যায় না। নেতৃবৃন্দ এই মূল্যবৃদ্ধির প্রচেষ্টা রুখে দাঁড়াতে ঢাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
নেতৃবৃন্দ সাম্প্রদায়িক জঙ্গি নির্মূল, লুটপাটতন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদ, গণতন্ত্রহীনতার বিরুদ্ধে নীতিনিষ্ঠ অবস্থান থেকে সংগ্রাম পরিচালনা ও দেশ বাঁচাতে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তি সমাবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী সমাবেশের শুরুতে উদীচীর শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এর আগে পল্টন-মতিঝিলের বিভিন্ন এলাকা থেকে লাল পতাকার মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন।