সাহাব উদ্দিনকে ২ লাখ ডলার ও ৩০০ মোটরসাইকেল দিয়েছিলাম

57

যুগবার্তা ডেস্ক : চট্টগ্রামে আটক দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান নির্বিঘ্ন করতে আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) কাছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স) এনএসআইয়ের সাবেক পরিচালক উইং কমান্ডার (অব.) সাহাব উদ্দিন আহাম্মদ ২ লাখ মার্কিন ডলার ও ৩০০টি মোটরসাইকেল ঘুষ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির কমান্ডার ইন চিফ পরেশ আসাম ওরফে পরেশ বড়ুয়া।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের আসামকে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম চালানো এই উলফা নেতা আমাদের অর্থনীতিকে টেলিফোনে এক সাক্ষাতকারে এ দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘অস্ত্র চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নির্বিঘ্নে যাতে আসামে যায় সে জন্য আমরা সাহাব উদ্দিনকে ২ লাখ মার্কিন ডলার ও ৩০০টি মোটরসাইকেল দিয়েছিলাম। আমরা তাকে বলেছিলাম, আমরা বাংলাদেশের ইমেজ নষ্ট করতে চাই না। বাংলাদেশের মানুষের চোখে যাতে আমরা খারাপ না হই। তিনি (সাহাব উদ্দিন) আমাদের আশ্বস্ত করে শেষ মুহূর্তে বেঈমানি করেছেন।’
পরেশ বড়ুয়া বলেন, অস্ত্র আটকের দুদিন আগেই আমরা বুঝলাম সাহাব উদ্দিন আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে। এরপর আমি সিএমএইচ হাসপাতালে গিয়ে দেখা করলাম, তখন সাহাব উদ্দিন আমাকে বলল, ‘কোনো সমস্যা হবে না, আমি সব ব্যবস্থা করব।’
আমি তাকে বললাম, ‘আমাদের জনগণের টাকায় কেনা অস্ত্রের যেন অপব্যবহার না হয়। আপনার উৎসাহেই এই অস্ত্র এনেছি। তাছাড়া আমরা বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে অস্ত্র আনতাম না। এখন যদি আপনি বিশ্বাসঘাতকতা করেন তাহলে এর বিচার আল্লাহ করবেন।’
সাহাব উদ্দিন বলেছেন, আমার অনুপস্থিতিতে আকবর নামে একজন লোক থাকবে, সে সবকিছু দেখবে। ট্রাকের জন্য আকবর নামে একজন গিয়েছিল আর আমাদের পক্ষ থেকে একজন গিয়েছিল। তারপর একজনের পর একজন ধরা পড়েছে, একটার সাথে একটা যোগসূত্র দেখিয়েছে। এটা শুনে আমি হতভম্ব হয়ে গেছি। এ ঘটনার সাথে ডিজিএফআই বা অন্য কেউ জড়িত ছিল কিনা তা আমার দেখার বিষয় না। আমার উদ্দেশ্য ছিল কিভাবে মিশনটা শেষ করা যায়। পরে আমি হাফিজ উদ্দিনকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনি কেন এই কাজটা করলেন। কেন বাংলাদেশে আমাদের মান এবং আমাকে কলঙ্কিত করলেন। আপনি আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা কেন করলেন। পরবর্তীতে একটার পর একটা ঘটনা ঘটেছে। আমি অবশ্যই এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিলাম। কারণ আমরা সশস্ত্র সংগ্রাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমাদের সংগ্রামের প্রতি, মাটির প্রতি শ্রদ্ধা আছে; সেজন্য আমাকে এই ধরনের কাজ করার জন্য বাংলাদেশের আইন ভঙ্গ করতে হয়েছে। এই ঘটনার সাথে সরাসরি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত না থাকলেও আমি এর সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম। আর এ ঘটনার শুরু থেকেই প্ল্যানসহ যা যা করা দরকার সব করেছে সাহাব উদ্দিন। সে আমাদের কাছে যা চেয়েছিল তাই দিয়েছি। সে আমাদের কাছে ২ লাখ মার্কিন ডলার চেয়েছিল। এরপর ৩০০টা মোটরসাইকেল চেয়েছিল। আমরা তার সব দাবি পূরণ করেছি।
প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল চট্টগ্রাম নগরের সিইউএফএল জেটিঘাটে দশ ট্রাক অস্ত্রের চালান ধরা পড়ে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এমভি শাহ আলম ও এমভি খাজার দান নামে দুটি ফিশিং ট্রলার থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। ২০০৪ সালের ৩ এপ্রিল কর্ণফুলী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহাদুর রহমান বাদী হয়ে অস্ত্র আটক ও চোরাচালান আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫বি(১)(বি) ধারায় চোরাচালান এবং ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনে এসব মামলা করা হয়। এরপর ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এতে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও উলফার নেতা পরেশ বড়ুয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদ-ের রায় দেয় আদালত। এ ছাড়া, অস্ত্র আটকের অন্য একটি মামলায় ওই ১৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।মাছুম বিল্লাহ, আমাদের সময়.কম