সাম্রাজ্যবাদ-সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মওলানা ভাসানী ছিল আপোষহীন যোদ্ধা—–মেনন

যুগবার্তা ডেস্কঃ সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী সংগ্রামে মওলানা ভাসানী ছিলেন একজন আপোষহীন যোদ্ধা। তিনি ছিলেন মজলুম জনতার রাজনৈতিক নেতা। মওলানা ভাসানী বেঁচে থাকলে তিনি বর্তমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে “খামোশ” বলে সোচ্চার হতেন। আজকের দিনে মওলানা ভাসানীর মতো একজন দৃঢ়চেতা নেতার খুবই দরকার।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ শহীদ আসাদ মিলনায়তনে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি একথা বলেন। ঢাকা মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি আবুল হোসাইন। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, নারী নেত্রী কমরেড হাজেরা সুলতানা এমপি, বিশিষ্ট কলামিষ্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, নগর নেতা কমরেড কিশোর রায়, কমরেড মুর্শিদা আখতার ডেইজী প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কমরেড রাশেদ খান মেনন বলেন, মওলানা ভাসানী সারা জীবন সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। ১৯৪৯ সালের গঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগ নাম পরিবর্তন করে পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করে। এ থেকেই তার অসাম্প্রদায়িক চরিত্র ফুটে উঠে। তিনি ছিলেন মজলুম জনতার প্রিয় নেতা। তিনি সমাজের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রামের এক অকুতভয় নেতা। কমরেড মেনন বলেন, আজকে যারা মওলানার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করছেন তাদের অনেকেই মওলানার রাজনীতির অনুসারী নয়, বরং মওলানার রাজনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
কমরেড বাদশা বলেন, মওলানা ভাসানী সমাজের বৈষম্য-নিপীড়নের বিরুদ্ধে যেমন কথা বলেছেন তেমনি ভাবে তিনি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামে আন্তর্জাতিক ঐক্য ও সংহতি গড়ে তোলার জন্য বিশ্বের সকল নিপীড়িত জাতিসমূহের ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই দেশপ্রেমিক প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী নেতা। ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, মওলানা ভাসানী জামাতের রাজনীতি ঘোর বিরোধী ছিলেন। তিনি বলেছিলেন “নীল নদের পানি যেমন নীল নয়, তেমনি জামাতে ইসলাম ইসলাম নয়”।