সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, লুটপাটের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলুন-সেলিম

যুগবার্তা ডেস্কঃ সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রদায়িক হামলা, মানুষ হত্যা, মন্দির ভাংচুর, আদিবাসী হত্যার বিরুদ্ধে সর্বত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শুক্রবার সকালে মুক্তিভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে সংগঠনের সভাপতি সোহেল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি আরো বলেন গ্রামে-গ্রামে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে এবং ক্ষেতমজুরদের সারা বছর কাজ ও খাদ্যের দাবির আন্দোলন অগ্রসর করতে হবে।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত ১০টাকা কেজি চাল বিতরণে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম, লুটপাট বন্ধ করতে হবে। সভায় নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ১০টাকা কেজি চালের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করে প্রকৃত দরিদ্র মানুষের মধ্যে তা বণ্টনের দাবি করেন।
সভা থেকে ১০ টাকা কেজি চালে অনিয়ম বন্ধ, পল্লী রেশনিং চালুসহ ক্ষেতমজুর সমিতির ১০দফা বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। দেশব্যাপী সংগঠনের নেতৃত্বে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সভায় নেতৃবৃন্দ গ্রামের গরিব-অসহায় মানুষ চরম নির্যাতনের শিকার। কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে ১৭-৩১ ডিসেম্বর জেলা কমিটির বর্ধিত সভা, জানুয়ারি মাসব্যাপী ইউনিয়ন পর্যায়ে হাটসভা, ২২-২৮ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ, ১২ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ, ১৮ মার্চ সংগঠনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন। এছাড়াও ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস, ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস পালন, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে পালন করতে হবে।
সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির রিপোর্ট উত্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রেজা। সংগঠন ও আন্দোলন সংক্রান্ত রিপোর্ট উত্থাপন করেন সহ-সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার। সভার শুরুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন আরিফুল ইসলাম নাদিম।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি, বর্তমান কমিটির সদস্য শামছুজ্জামান সেলিম, কেন্দ্রীয় নেতা মৃন্ময় মন্ডল, আব্দুর রেজ্জাক, অ্যাড. চিত্তরঞ্জন গোলদার, প্রদ্যু ফৌজদার, শ্রীদাম দাস, চন্দন সিদ্ধান্ত, আনোয়ার হোসেন, রমেন্দ্র নারায়ণ সরকার, হাফিজার রহমান, দেলোয়ার হোসেন, নজরুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান দুদু, খলিলুর রহমান বাঙালি, মো. ইসরাফিল, নলিনী সরকার, অ্যাড. রফিকুল ইসলাম, মশিউর রহমান মঈশাল প্রমুখ। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, খাসজমি আজ টাউট-বাটপাররা দখল করে আছে। গুচ্ছগ্রামের নামে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে। এসব জায়গায় প্রকৃত ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের মধ্যে খাসজমি ও গুচ্ছগ্রামের বাড়ি বরাদ্দর দাবি জানানো হয় সভা থেকে। সভায় ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের জন্য সারা বছর কাজ ও দৈনিক ন্যূনতম মজুরি ৫০০টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।