সামান্য বৃষ্টিতেই দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহত ব্যবসায়ীক বন্দরে হাঁটু পানি

75

কল্যাণ কুমার চন্দ, বরিশাল ॥
সামান্য বৃষ্টিতেই দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহত ব্যবসায়ীক বন্দর জেলার গৌরনদী পৌর এলাকার টরকী বন্দরে হাঁটু সমান পানি জমে ব্যবসায়ী, ক্রেতাসহ স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভোগান্তি লাঘবের বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই। এনিয়ে বিশেষ অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াতের চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে আড়িয়াল খাঁর শাখা পালরদী নদী সংলগ্ন টরকী বন্দরে মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া শাখা খালের দক্ষিণ পাশ থেকে শুরু করে উত্তর পান্তের বন্দরের মধ্যকার প্রায় আধাকিলোমিটার খাল অবৈধভাবে ভরাট করে সেখানে সুরম্য পাকা আবাসিক ভবনসহ দোকানপাট নির্মান করায় প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ওইসময় বিএনপির কতিপয় নেতাসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা যে যেভাবে পেরেছেন দখল করে নিয়েছেন সরকারী খাল। দখলদাররা সরকারী খালে পজিশন বিক্রয়ের বাণিজ্যও করছেন দেদারসে। সবদখল টিকিয়ে রাখতে প্রভাবশালীরা খালের দখলীয় সম্পত্তিতে একটি মসজিদও নির্মান করেছেন। প্রভাবশালীদের দখল বাণিজ্যের কারনে দিনে দিনে বন্ধ হয়ে গেছে পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা। আর একারনেই সামান্য বৃষ্টিতেই টরকী বন্দরের বিভিন্ন সড়কে হাঁটু সমান পানি জমে পুরো বন্দরের প্রায় তিন হাজার ব্যবসায়ী, ক্রেতা, তিনটি স্কুলের শিক্ষার্থীসহ পাশ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের উত্তরপ্রান্তে (দখলের শেষ প্রান্তে) এখনও রয়েছে বিশাল চওড়া খালের মুখ কিন্তু নদী থেকে পানি প্রবেশের মুখ ভরাট করে বন্ধ করে দেয়ায় পানি নিস্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। গত কয়েকদিনের চলমান ভারী বর্ষণে টরকী বন্দরের প্রধান সড়কসহ বাড়িঘর ও ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। কাঁদা পানিতে একাকার হয়ে দুর্ভোগে রয়েছে অনেক পরিবার। প্রতিকারে এগিয়ে আসছেন না কেউ।
বন্দরের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বৃষ্টি হলেই বন্দরের সড়কগুলো পানির নিচে থাকায় ক্রেতাসমাগম কমে যাওয়ায় তাদের বিকিকিনি বন্ধ হয়ে ব্যবসায়ীরা অপূরনীয় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তারা আরও বলেন, কতিপয় প্রভাবশালীর দখল বাণিজ্যের কারণে এখন বন্দরের তিন সহস্রাধীক ব্যবসায়ীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভূক্তভোগী ব্যবসায়ীরা সরজমিন পরিদর্শন করে সরকারী খাল থেকে অবৈধ ভবন উচ্ছেদ করে পানি নিস্কাশনের মাধ্যমে বন্দর রক্ষা ও বন্দরের ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, পৌর মেয়র মোঃ হারিছুর রহমানসহ সংশিøষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
ভূক্তভোগী টরকী বন্দরের পাশ্ববর্তী এলাকার আবাসিক ভবনের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, একটু বৃষ্টিতেই বন্দরের সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় টরকী হাইস্কুল, বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও প্রি-ক্যাডেট স্কুলের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী এবং কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ বাসিন্দাদের বাসা থেকে বের হয়েই হাঁটু সমান পানি ভেঙ্গে বের হতে হয়। পানি কমে যাওয়ার পর শুরু হয় তাদের কর্দমক্ত রাস্তায় যাতায়াত। আর এ জন্য দায়ী সরকারী খাল দখলকারীরা। তারা নিজেদের স্বার্থে পানি নিস্কাশনের জন্য সরকারী খাল অবৈধভাবে দখল করে ভবন নির্মানের কারণে বন্দরের ব্যবসায়ী ও পাশ্ববর্তী বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে গৌরনদী পৌরসভার মেয়র মোঃ হারিছুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। খুবশীঘ্রই অবৈধভাবে দখলকৃত খাল উদ্ধারসহ পানি নিস্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।