সাধারণদের দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পূরণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ

যুগবার্তা ডেস্ক: বিসিএসে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে শূন্যপদগুলো মেধাতালিকায় অবস্থানকারী সাধারণ প্রার্থীদের দিয়ে পূরণ করা হবে, এ সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ কেন্দ্রীয় কমিটি।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান শাহীন আজ এক বিবৃতিতে মন্ত্রিপরিষদের এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ না দিয়ে এই কোটায় প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ সাধারণদের দিয়ে পূরণ করা হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি- সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয় (পিএসসি) এখনো এদেশে দীর্ঘদিনের জামায়াতি শাসনের ভুতের আছর থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। তাই মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নাম শুনলেই তাদের গায়ে জ্বালা ধরে যায়। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য সরকারী কোটা থাকলেও এই কোটায় যোগ্যতার দোহাই দিয়ে ইচ্ছাপূর্বক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের মৌখিক পরীক্ষা থেকে বাদ দিয়ে দেয়। বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পাওয়া যায় না। অথচ এখনো কয়েক লাখ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বেকারত্ব নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোটায় শুন্য পদগুলো পূরণের জন্য অবিলম্বে একটি স্পেশাল বিবিএস পরীক্ষা আয়োজনের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান প্রিলিমিনারী, লিখিত, মনস্তাত্বিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তার আর কি যোগ্যতার প্রমান দিতে হবে? মৌখিক পরীক্ষা ঘুষ লেনদেনের জন্য একটি উত্তম পন্থা হতে পারে। কিন্তু এটি কখনোই যোগ্যতা যাচাইয়ের একমাত্র মানদন্ড হতে পারে না।

জামায়াতের দোসর পিএসসি’র কিছু কর্মকর্তা বা কোন মহলের ইন্ধনে বা গুটি কয়েক পশ্চাদপদশীল লোকের অযৌক্তিক দাবির মুখে চাকুরিতে বিদ্যমান মুক্তিযোদ্ধা কোটায় হাত দেয়া ঠিক হবে না। কোটা সংস্কারে তাদের একটি বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে বলে আমরা মনে করি। একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে সামনে নিয়ে এসে তারা জঙ্গি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে গড়ে উঠা চলমান আন্দোলনকে ব্যাহত করতে চায়। কারণ এরা কখনোই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক একটি দেশপ্রেমিক প্রশাসন গড়ে উঠুক এটা চায় না।

অবিলম্বে আত্মঘাতি এই সিদ্ধান্ত থেকে সড়ে আসার আহবান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি মুক্তিযোদ্ধা বান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার কিছু সংখ্যক জামায়াত-শিবির মার্কা লোকের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় হাত দেবে না।

তারা বলেন, এই কোটা কারো দয়ার দানে প্রাপ্ত নয়। এটি মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সাংবিধানিক অধিকার। কোটা নিয়ে কোন ধরনের কুট চালাকি মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা বরদাস্ত করবে না।

নেতৃবৃন্দ বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের প্রতি সম্মান দেখিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই কোটা প্রবর্তন করেন। জাতির জনককে হত্যার পর দীর্ঘ একুশ বছর এই কোটায় কোন মুক্তিযোদ্ধার চাকুরি হয়নি। এই কোটা না মানায়, তা ভোগ করেছে অমুক্তিযোদ্ধারা। জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাসীন হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের দু:খ দুর্দশার কথা বিবেচনা করে এই কোটা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং পরবর্তীতে তাদের প্রজন্মের জন্য বরাদ্দ করেন। কিন্তু প্রশাসনের কিছু স্বাধীনতাবিরোধী লোকের ষড়যন্ত্রের কারণে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কৌশলে ভাইভার টেবিল থেকে ফেরৎ দিয়ে বলা হয়, যোগ্য