সাংবাদিকদের নবম ওয়েজ বোর্ডের দাবিতে আলটিমেটাম

54

যুগবার্তা ডেস্কঃ গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণার জন্য সরকারকে এক মাসের সময় বেঁধে দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। অন্যথায় দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তারা। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক সমাবেশে সাংবাদিকদের পক্ষে আলটিমেটাম দেন বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব নিউজপেপার প্রেস ওয়ার্কার্স (প্রেস ফেডারেশন) সভাপতি আলমগীর হোসেন।
গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য অবিলম্বে নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণার দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। আলমগীর হোসেন সমাবেশে সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রাক্তন সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘ওয়েজ বোর্ড আমাদের পেশাগত দাবি। যেখানে সরকারি সব কর্মকর্তাদের বেতন নিয়মিত বৃদ্ধি পায়, সেখানে প্রতিবার ওয়েজ বোর্ডের জন্য কেন আমাদের আন্দোলন করতে হবে? যে বাজারে সরকারি কর্মকর্তা, মন্ত্রী-এমপিরা যান, সেই বাজারেই আমারাও যাই। দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে আমরা কীভাবে এই কম আয় নিয়ে বেঁচে থাকি?’
তিনি আরো বলেন, ‘ওয়েজবোর্ড শুধু বেতন-ভাতা বৃদ্ধি নয়, সাংবাদিকদের চাকরির মর্যাদার প্রশ্ন। নমব ওয়েজবোর্ড অযৌক্তিক কোনো দাবি না, স্বপ্নের কোনো দাবি না, এটা সময়ের দাবি।’
নতুন সম্প্রচার আইনে শুধু প্রিন্ট মিডিয়া নয়, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার জন্যও ওয়েজবোর্ড ঘোষণা করার দাবি জানান তিনি।
জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে গণমাধ্যমের সব কর্মীদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করার দাবিও জানান মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের মহাসচিব ওমর ফারুক বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয় এতো কাজ করে কিন্তু সাংবাদিকদের কল্যাণে গত তিন বছরে কোনো কাজ করেনি। তথ্য মন্ত্রণালয়ের সবকিছুতে গতি আছে, সাংবাদিকদের ব্যাপারে কোনো কাজে গতি নেই।’
আগামী এক মাসের মধ্যে পত্রিকা, টিভি, রেডিও ও অনলাইনে নবম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা করতে হবে, নয়তো কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।
ভোরের পাতা, জনকণ্ঠ, যায়যায়দিনসহ যেসব গণমাধ্যমে সাংবাদিকদের বকেয়া পরিশোধ না করে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে তাদেরকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের নিপীড়ন-নির্যাতন বন্ধ করে সকল পাওনা পরিশোধ করতে হবে। তা না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’
বিএফইউজের একাংশের প্রাক্তন মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূঁইয়া বলেন, ‘টিভি, রেডিও ও অনলাইনে কেন এতোদিনেও ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়িত হল না? কেন সম্প্রচার নীতিমালা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে? সরকারকে নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করতে হবে এবং সব গণমাধ্যমে এর পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।’
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সভাপতি শাবান মাহমুদ বলেন, ‘শুধু প্রিন্ট মিডিয়াতে ওয়েজবোর্ড থাকবে আর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে থাকবে না, তা হবে না। অনলাইন মাধ্যমকেও সমমূল্যায়ন করতে হবে। নবম ওয়েজবোর্ড ঘোষণায় কোন ধরনের ষড়যন্ত্র করা হলে তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।’
যেসব গণমাধ্যমে সাংবাদিকদের বকেয়া পাওনা রয়েছে, তাদের আগামী ঈদের আগেই সব পাওনা পরিশোধের দাবি জানান তিনি।
ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন, বিএফইউজের কোষাধ্যক্ষ মধূসুধন মণ্ডল, ডিইউজের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহজাহান মিয়া, দপ্তর সম্পাদক মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল প্রমুখ।