সরকার বিরোধী দলগুলোকে স্তব্ধ করতে উঠেপড়ে লেগেছে: মির্জা ফকরুল

ডেস্ক রিপোর্ট: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “বর্তমান সরকার বিরোধীদলহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের মাধ্যমে নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘকাল ভোগ করার বাসনায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে লাগামহীনভাবে বাধা প্রদান করছে। সরকারের মদদে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যা, গুরুতর আহত, বানোয়াট মামলা দিয়ে গ্রেফতার এবং বিএনপি’র শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ পন্ড করাকে নিত্যদিনের স্বাভাবিক কর্মকান্ড হিসেবে গণ্য করছে। গণধিকৃত আওয়ামী সরকার জনবিস্ফোরণ দেখে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় এখন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে নিঃশব্দ পরিবেশ সৃষ্টি করতেই নিশিরাতের সরকার বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে স্তব্ধ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। আর সেজন্যই তারা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে কব্জায় নিয়ে বিএনপি এবং বিরোধী দলগুলোর সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও মানবিক কর্মসূচির ওপর বেপরোয়া হামলা শুরু করেছে।
আজ এক বিবৃতিতে একথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, পাবনার ইশ্বরদী উপজেলায় ঋণ নিয়ে ফেরত না দেয়ার অভিযোগে ৩৭ জন কৃষকের নামে দায়েরকৃত মামলায় ইতোমধ্যে ১২ জন কৃষককে গ্রেফতারের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া নেত্রকোণা জেলাধীন বারহাট্টা উপজেলার দলীয় কার্যালয়ে কৃষকদলের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বোরো ধানের বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পৈশাচিক হামলা চালিয়ে বারহাট্টা উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক রেজাউল আলমসহ কৃষকদলের অনেক নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, নেত্রকোণা জেলাধীন বারহাট্টা উপজেলার দলীয় কার্যালয়ে কৃষকদলের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বোরো ধানের বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পৈশাচিক হামলা চালিয়ে বারহাট্টা উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক রেজাউল আলম, উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক সুধীন্দ্র চন্দ্র দাস, কৃষকদল নেতা মোঃ দুলাল মিয়া, সাহাব উদ্দিন, মঈনুল হাসান বাবলু, নিপেন্দ্র চন্দ্রসহ কৃষকদলের অনেক নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত করাসহ পাবনার ইশ^রদী উপজেলায় ঋণ নিয়ে ফেরত না দেয়ার অভিযোগে ৩৭ জন কৃষকের নামে দায়েরকৃত মামলায় ইতোমধ্যে ১২ জন কৃষককে গ্রেফতারের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর মর্মন্তুদ ঘটনা সেটিরই ধারাবাহিক অংশ। একদিকে অবৈধ সরকারের লুটেরা বাহিনী লুন্ঠন করে বিদেশে বিপুল অর্থবিত্তের পাহাড় গড়ছে, অন্যদিকে দেশের কৃষক যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল উৎপাদন করছে তাদের ওপর চলছে সীমাহিন জুলুম ও অত্যাচার। কৃষকরা এখন অভাব ও দেনার দায়ে জর্জরিত। ক্ষোভ-হতাশা ও বঞ্চনায় তারা আত্মহত্যাও করছে। বর্তমান সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয় বলেই জনস্বার্থের কোন দাবী বা অধিকারকে পরোয়া করে না। সরকার তাদের কৃতকর্মের জন্য এখন পুরোপুরি জনবিচ্ছিন্ন। তবে শত বাধা ও জুলুম-নির্যাতন চালিয়েও বর্তমান সরকার জনবিষ্ফোরণ ঠেকাতে পারবে না, ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে দমাতে পারবে না। সরকারের পতন অনিবার্য।

ফকরুল বলেন, আমি উল্লিখিত ঘটনায় তীব্র্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি।