সরকার নানা ‘বায়েস্কোপ’ প্রদর্শণ করে, অমানবিকতার বলি করছে নানা সম্প্রদায়ের মানুষদের–মির্জা ফকরুল

সুব্রত সানা: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণবিরোধী নীতির কারণে সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতায় দেশে নৈরাজ্য ভয়ালরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। দেশের মানুষ এখন জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে ভীতি ও শঙ্কার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। ঠিক এই মুহুর্তে সরকার নানা ‘বায়েস্কোপ’ প্রদর্শণ করে তাদের অমানবিকতার বলি করছে দেশের জনগোষ্ঠির নানা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষদের।
আজ গণমাধ্যমকে দেওয়া এক প্রেস-ব্রিফিং একথ বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, গত বুধবার সকালে কুমিল্লায় পূজা মন্ডপের ঘটনায় উৎকন্ঠা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দেশের বিভিন্ন স্থানে হতাহতের ঘটনাসহ দেশব্যাপী রক্তাক্ত সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। কুমিল্লা পূজা মন্ডপের ঘটনার জের ধরে- ঐদিন রাতে চাঁদপুরের হাজিগঞ্জে সহিংস সংঘাতে ৪জন নিহত হয়। প্রতক্ষ্যদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী হাজীগঞ্জে পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগ, যুবলীগও বিক্ষুদ্ধ জণতার ওপর গুলিবর্ষণ করে। এছাড়াও দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় পূজা মন্ডপে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

মির্জা ফকরুল বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরঞ্জিত শক্তি প্রয়োগের কারণে জীবনহানী ও গুরুত্বর আহতসহ দেশের বিভিন্ন জনপদ রক্তরঞ্জিত হচ্ছে। কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলাধীন বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হামলা-ভাংচুরসহ ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই সময় যতন সাহা নামে একজন ব্যক্তি গুরুত্বর অসুস্থ হলে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঐদিন চৌমুহনির বিভিন্ন এলাকা থেকে খন্ড-খন্ড মিছিল মূল সড়কের দিকে আসতে থাকলে সেটিকে সুশৃঙ্খলভাবে নিয়ন্ত্রন না করে বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেপরোয়া আক্রমণ চালিয় অসংখ্য মানুষকে আহত করে। এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বহীনতা এবং তাদের নির্বিকার ভূমিকার কারণেই শহরের কলেজ রোডসহ বিভিন্ন এলাকার মন্দিরে হামলা ও ভাংচুর হয়।

বিএনপির এই নেতা বলেন, কুমিল্লার পূজা মন্ডপের ঘটনার জের ধরে চাঁদপুরের হজিগঞ্জ, নোয়াখালীর চৌমুহনী, ঢাকা মহানগর, চট্টগ্রাম, সিলেট, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল, মন্দিরে হামলা, ভাংচুর, হামলার চেষ্টাসহ নানাবিধ সংঘাত-সংঘর্ষ ও পুলিশী আক্রমনে বিক্ষুব্ধ মানুষের ওপর লাঠি পেটা, গুলি, টিয়ারসেল ও সাউন্ডগ্রেনেড নিক্ষেপ এবং বেধড়ক গ্রেফতারসহ বর্বরোচিত আক্রমণে হতাহতের ঘটনা শুধু নির্দয় আচরণই নয়, এটি কাপুরুষোচিত। এই অরাজকতা সৃষ্টিকারীরা বাংলাদেশের হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুমহান ঐতিহ্যকে ম্লান করলো। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়েছে, তাদের উপসনালয় ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। ২০০৯ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে কক্সবাজারের রামু-উখিয়া, পাবনা, টাঙ্গাইল, বি-বাড়িয়া, ফরিদপুর, নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপসনালয়ে আক্রমণ ও লুটপাট চালানো হয়েছে। তাদের ঘর-বাড়ী, সহায়-সম্পত্তি আত্মসাত করা হয়েছে। এই দুস্কৃতিকারীরা প্রায় সকলেই ক্ষমতাসীন দলের লোক।

সাবেক এই মন্ত্রী আরও বলেন, দূর্গা পূজার প্রাক্কালে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আশ্বাস দেয়ার পরও কেন পবিত্র কোরআর অবমাননা, মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাংচুরের মতো ঘটনা ঘটলো। কুমিল্লার সাধারণ মানুষের মতো আমরাও একমত যে, পুলিশ বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিলে নানুয়া দীঘীর পাড়ের মন্ডপের ঘটনাটি নির্মম অমানবিকতার দিকে গড়াতো না।