সরকারের শিক্ষা ধ্বংসের পায়তারা রুখে দাঁড়াও

ডেস্ক রিপোর্ট: আসন্ন বার্ষিক মূল্যায়ন পরীক্ষা গ্রহণ প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সারাদেশে এক নির্দেশনা পাঠানো হয়। আদেশে বলা হয়েছে- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের বোর্ডে প্রশ্নপত্র লিখে মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের ঘর থেকে প্রয়োজনীয় কাগজ নিয়ে আসতে হবে। এঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ ফয়েজ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “এই নির্দেশনায় আওয়ামীলীগ সরকারের নতজানু চরিত্র প্রকাশ পেয়েছে। আমরা দেখেছি করোনার সময় ব্যবসায়ীদের কিভাবে প্রণোদনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষা যা কিনা জাতির মেরুদণ্ড তার দিকে সরকারের ছিলনা কোন নজর। করোনাপরবর্তী সময়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ঝরে গেছে। তাদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের তো পদক্ষেপ তো নেই উল্টো এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেছে নেয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের খরচ বাচানোর জন্য। এভাবে প্রশ্ন বোর্ডে লিখে দেয়া এবং মূল্যায়নের খাতা নিয়ে আসতে নির্দেশনা প্রদান প্রমাণ করে আমাদের শিক্ষা মন্ত্রনালয় কাদের হাতে চলছে। বোর্ডে প্রশ্ন লিখে কিভাবে মূল্যায়ন হবে তা আমাদের বোধগম্য হয়না।

কারন স্বাভাবিক সময়ে যে প্রশ্ন করা হয় বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী তার সব প্রশ্ন এক সঙ্গে ব্ল্যাকবোর্ডে লেখা যাবে না। বারবার মুছে মুছে নতুন প্রশ্ন লিখতে হবে। যা শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ের জন্য বেশ অসুবিধাজনক। দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রান্তিক অঞ্চলে থাকে। বর্তমানে কাগজ-সহ শিক্ষা উপকরণের দাম যখন আকাশচুম্বী, সাধারণ মানুষের আয় যখন তলানীতে, নুন আনতে পান্তা ফুরোচ্ছে, – তখন এই নির্দেশনা সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা গ্রহণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করবে। নতুন করে ঝরে যাবে আরো অনেক শিক্ষার্থী। উচ্চ শিক্ষাকে তো সরকার ব্যবসায়ীদের হাতে আগেই তুলে দিয়েছে। এখন নজর পড়েছে প্রাথমিক শিক্ষার উপর। টাকা যার শিক্ষা তার এই নীতিতেই হাটছে সরকার। আমরা প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে কঠোর হুশিয়ারি দিতে চাই। অবিলম্বে এই নির্দেশনা প্রত্যহার করুন। নচেৎ আমরা সারাদেশে ছাত্র ধর্মঘট দিতে বাধ্য হবো। একই সাথে সরকারের কাছে আমরা দাবি জানাবো, সকল শিক্ষা উপকরণের দাম কমানোর।”