সরকারের প্রতি হাওর কনভেনশনের আহ্বান

67

যুগবার্তা ডেস্কঃ হাওরের সকল জনমহালের ইজারা বাতিল করে জনসাধারণের মাছ ধরার জন্য উন্মুক্ত করে দিন সিপিবি-বাসদ আহুত শনিবার ‘হাওর কনভেনশন’ এ সরকারের কাছে উপরোক্ত আহ্বান জানানো হয়। মণি সিংহ-ফরহাদ ট্রাষ্টের শহীদ তাজুল মিলনায়তনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ কনভেনশনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল, লেখক-সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, কৃষি বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন, বাপা সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল মতিন, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জাব্বার, হাওর আন্দোলনের নেতা এডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম, বিশিষ্টসঙ্গীত শিল্পী কফিল আহমদ, হাওর গবেষক হালিমদাদ খান, পরিবেশবিদ পাভেল পার্থ। হাওরবাসীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জের চিত্তরঞ্জন তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, ধনঞ্জয় পাল, আব্দুল বারেক, নেত্রকোনার গোলাম রাব্বানী, হাবিবুর রহমান, এমদাদুল হক শাহ রেন্টু, মৌলভীবাজারের জহর লাল দত্ত, কিশোরগঞ্জের লুৎফর রহমান, মোস্তফা জালাল মর্তুজ, হবিগঞ্জের পিযুষ চক্রবর্তী, এ আর সি কাউসার, কিশোরগঞ্জের এনামুল হক ইদ্রিস, নুরুল হক ভূইয়া। কনভেনশনে লিখিত বক্তব্য উত্থাপন করেন সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষক নেতা কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন। কনভেনশন পরিচালনা করেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজ।
সভাপতির বক্তব্যে কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, এ বছরে হাওরে মহা বিপর্যয় নেমে এসেছে। প্রায় ৯০ শতাংশ বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। মাছ, হাঁসসহ জলজ প্রাণী মরেছে। ধান কাটতে না পারায় পশু খাদ্যের সংকট তীব্র হয়েছে। আগামী বোরো মৌসুমের আগে ধান আসবে না কৃষকের ঘরে ফলে খাবারের সংস্থান করা, ঋণ পরিশোধ করা, গরু-মহিষ-ছাগল, হাঁস-মুরগী বাঁচানো কৃষকের কাছে এক ভয়াবহ বিপদ হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে।
বাসদ সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান দিনব্যাপী আলোচনার সার সংক্ষেপ করতে গিয়ে বলেন, দুর্নীতিবাজ আমলা ও সরকার দলীয় পরিচয়ে কাজ পাওয়া ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে দাবী জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমলা ও ঠিকাদারদের চক্রের কারণে হাওরবাসী আজকে এই মহাবিপদে পতিত হয়েছে। ফলে এদের উচ্ছেদ ছাড়া হাওরবাসীর মুক্তি নেই। তিনি আরো বলেন এ কনভেনশনে যে দাবিগুলো উত্থাপিত হয়েছে সেগুলো নিয়ে আন্দোলন করতে হবে এবং তা আদায়ও করতে হবে। কিন্তু মূল আন্দোলন হচ্ছে এ রাষ্ট্র পরিবর্তন করা এবং সমাজের বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করা।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেন, ৩০ কেজি চাল, নগদ ৫০০ টাকা দিয়ে পাঁচ সদস্যের একটি পরিবার এক মাসের ভরপোষণ কোনভাবে হতে পারে না। হাওরে ২৫ লক্ষ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরকার ৩ লক্ষ পরিবারকে সহযোগিতা দিচ্ছে, বাকীদের কী হবে? যারা পাচ্ছে- তাদের দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে দেওয়া হচ্ছে। ফলে অনেক প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত বিশেষ করে নারী প্রধান পরিবারগুলো সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
লেখক-সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, হাওর অঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করার দাবির প্রেÿিতে ত্রাণ সচিব যে উপহাস করেছেন তা দিয়েই জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের আচরণ বোঝা যায়। তিনি প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।
সিপিবি-বাসদ উত্থাপিত ধারণাপত্রে হাওর সমস্যাকে দৃষ্টিভঙ্গি ও মনুষ্যসৃষ্ট সমস্যা আখ্যায়িত করে চলমান বিপর্যয় থেকে হাওরবাসীকে রক্ষা ও হাওর সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য ১৬ দফা দাবিনামা উত্থাপন করা হয়, যা কনভেনশনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
কনভেনশন থেকে ঘোষিত কর্মসূচী ৮ জুন হাওর উপজেলা সমূহে ১৬ দফা দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও
১০ জুন কিশোরগঞ্জ শহরে হাওর সম্মেলন।