সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে জামায়াতের নয়া পরিকল্পনা

44

যুগবার্তা ডস্কে: সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নতুন তৎপরতা শুরু করেছে জামায়াত-শিবির চক্র। তাদের যাবতীয় সহযোগিতা করছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও জেএমবি। এক্ষেত্রে তারা ফেসবুক, টুইটার ও ব্লগের ৩২টি সাইটের মাধ্যমে অতিসতর্কতার সঙ্গে ক্লোজগ্রুপে নিজেদের মধ্যে মিলিত হচ্ছে। পরিকল্পনা করছে নাশকতার। সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ে এসব তথ্য জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সাইবার নিরাত্তা দল ও একটি গোয়েন্দা সংস্থা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন স্পর্শকাতর ইস্যুকে সামনে রেখে নাশকাতার নানা ছক তৈরি করছে ষড়যন্ত্রকারীরা। এক্ষেত্রে পার্বত্য তিন জেলা তাদের অন্যতম প্রধান টার্গেট। ইতিমধ্যেই নাইক্ষংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় জামায়াত নেতা তোফাইল আহমদের ভাই জহিরের বাসা থেকে তিনটি শর্টগান উদ্ধার করেছে আইনশৃংখলা বাহিনী। নাশকতার ছকে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াত-শিবির ও তাদের ‘অপ্রকাশ্য শক্তি’ (নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ও বিদেশীচক্র) বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে গোপনে সংগঠিত হচ্ছে। এছাড়া তাদের বিভিন্নভাবে ইন্ধন দিচ্ছে একটি রাজনৈতিক দলের দুই নেতা। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এ দু’জনকে খুব শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হতে পারে। এসব বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর ফেসবুক, টুইটার ও ব্লগের ৩২টি সাইটের ওপর কঠোর নজরদারি শুরু করছে সরকারের সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শুক্রবার টেলিফোনে বলেন, দুই বিদেশী নাগরিক হত্যা ও বিভিন্ন এলাকায় হামলা করে যারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করেছিল, তারা নতুন করে কৌশলে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের কঠোরহস্তে দমন করতে সরকারের আইনশৃংখলা বাহিনী ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের গোয়েন্দারা তৎপর রয়েছেন। তিনি বলেন, যারা সামাজিক মাধ্যম কিংবা ব্লগে ক্লোজগ্রুপে পরামর্শ করছে তাদের প্রযুক্তির মাধ্যমেই শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি আগাম তথ্যের মাধ্যমে অনেক ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আইনশৃংখলা বাহিনী এবং সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গতবছর সেপ্টেম্বর মাস থেকে অনেকগুলো সাইট নজরদারি করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময় নাশকতাকারীরা নতুন নতুন সাইট খুলে পরামর্শ করছে। বিভিন্ন সময় পাওয়া ৩২টি সাইটে এখন কঠোর নজরদারি চলছে। এরমধে ২৬টি সাইটের নাম জানা গেছে। তদন্ত ও অনুসন্ধানের স্বার্থে বাকি ছয়টি সাইটের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।
যে সাইটগুলোর নাম জানা গেছে সেগুলোর মধ্যে চারটি সাইট মাত্র কয়েকদিন আগে খোলা হয়। এগুলো হচ্ছে-কথিত আইএস নারায়ণগঞ্জ, আইএস রংপুর, আল হায়াত মিডিয়া সেন্টার ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিম চট্টগ্রাম। বাকি সাইটগুলো হচ্ছে- ভয়েস অব ইসলামী জিহাদ, আল মুজাহিদীন, হামজা, আনসার উল ইসলাম, আত তামকীন, দাওলাতুল ইসলাম, খিলাফতের সৈনিক, মৌমাছি মৌমাছি, সাদাপাতা, জিহাদী জন, নাইক্ষ্যংছড়িবাসী, বান্দরবানবাসী, রক্তাক্ত প্রান্তর, কোরআনের আলো সংসদে জ্বালো, সত্যের পথের সৈনিক, জেরুজালেম, দাওলাতুল খিলাফাহ, বাবউল ইসলাম, রংপুর জিহাদী গ্রুপ, ইত্তেহাদুল মুজাহিদীন ও আল আমিনের ব্লগ।
এ প্রসঙ্গে সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, জামায়াত-শিবির ও উগ্রপন্থিরা ৩২টি সাইটে নিজেদের মধ্যে শলাপরামর্শ করে। এর মধ্যে কিছু কিছু সাইটে তথ্য আদান-প্রদান শেষে তা মুছে ফেলেছে অপরাধীরা। এ ধরনের ১২টি সাইটে আপলোড করা তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে নতুন আরও চারটি সাইট থেকে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। যেখানে রয়েছে নাশকতার পরিকল্পনার বিভিন্ন তথ্য। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে নাশকতার কাজে সাইবার সন্ত্রাসীরা সাইটগুলো ব্যবহার করছে। তারা রক্তপাতের মাধ্যমে ভিআইপি ব্যক্তিসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে হত্যার পরিকল্পনার তথ্য আদান-প্রদান করেছে। কিন্তু হালে আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক ঘটনা রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ বলেন, দুই বিদেশী নাগরিক খুন, দেশের বিভিন্নস্থানে হামলা ও নাশকতার মাধ্যমে এটা প্রতীয়মান হয়েছে যে, জামায়াত-শিবির ও তাদের মিত্রদল সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সক্রিয় রয়েছে। তারা এখন নতুন কৌশলে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। আর ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিরোধ করাটা এখন আইনশৃংখলা বাহিনী ও গোয়েন্দাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। আইনশৃংখলা বাহিনী এ স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করতে পারলে দেশে সব ধরনের ঝুঁকি কমে আসবে।